স্টাফ রিপোর্টার: সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে আনা সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে। দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধার যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক ছিল; সে বিবেচনায় বিলটি পাস হওয়াকে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার–১৯৭৩ সংশোধন বিল’ উত্থাপন করেন। কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছাড়াই বিলটি পাস হয়। এর মাধ্যমে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগসংক্রান্ত ধারা (৩সি) বিলুপ্ত করা হয়েছে। আগে একজন সংসদ সদস্য তাঁর মেয়াদকালে একবার এবং পাঁচ বছর পর পুনরায় শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুযোগ পেতেন।
এই সুবিধা প্রথম চালু হয়েছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়। নির্বাচনী এলাকায় যোগাযোগ সহজ করার যুক্তিতে এটি প্রবর্তন করা হলেও বাস্তবে তা অনেক ক্ষেত্রে অপব্যবহারের অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে ওঠে। বিগত সংসদগুলোতে অনেক সদস্য বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করেছেন এবং শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ি উচ্চমূল্যে বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে।
তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের তিন মেয়াদে অন্তত ৫৭৬টি গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা হয়, যার মূল্য ৪২৮ কোটি টাকার বেশি। একই গাড়ি সাধারণভাবে আমদানি করলে কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হতো। এমন প্রেক্ষাপটে দরিদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত দেশে এই ধরনের সুবিধা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—উভয় দলই এ সুবিধা গ্রহণ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে বর্তমান বিল পাস হওয়া সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
তবে শুধু গাড়ি সুবিধা বাতিলই যথেষ্ট নয়। সংসদ সদস্যদের জন্য বিদ্যমান অন্যান্য অযৌক্তিক সুবিধা—যেমন সরকারি প্লট বরাদ্দ—নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এগুলো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
অতিরিক্ত সুবিধা ও সুযোগ-সুবিধার কারণে সংসদ সদস্য হওয়াকে অনেক সময় ‘লাভজনক’ পদ হিসেবে দেখা হয়, যা গণতান্ত্রিক জবাবদিহির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই জনপ্রতিনিধিদের সুবিধা নির্ধারণে জনস্বার্থ ও ন্যায়সংগততার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন প্রয়োজন—অন্য বিতর্কিত সুবিধাগুলোও ধাপে ধাপে সংস্কার করা, যাতে সংসদীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হয়।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি