বেনাপোল প্রতিনিধি : আজ ‘মে’ দিবস। ১৮৮৬ সালের ১লা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিনের দাবীতে আন্দোলন হয়। উক্ত আন্দোলণে পুলিশেন ছোঁড়া গুলিতে ১১ জন শহীদ হয়। এদিনটি সরকারীভাবে ছুটির দিন। এ উপলক্ষে বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করে। এই আয়োজনে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে প্রায় ১ মাইল দীর্ঘ র্যালী শ্রমিক সংগঠন দুটি’র বন্দর সংলগ্ন অফিস কার্যালয় থেকে বের করা হয়। র্যালি’র এক টিতে নেতৃত্ব দেন বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫,এর সাধারণ সম্পাদক-মো. সহিদ আলী। এ সময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন,সংগঠনটি’র সভাপতি তবিবর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক ডা.ইদ্রিস আলী সহ অন্যান্যরা।
র্যালিটি প্রায় ২ মাইল দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বেনাপোল বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকদের হাতে মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার দেখা যায়।
র্যালি ‘র নেতৃত্বদানকারী সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এবং শার্শা উপজেলা বিএনপি’র শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. সহিদ আলী বলেন,মে দিবসের এই দিনে তারা তাদের অধিকার ও দাবি-দাওয়ার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ এবং অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।
অপরদিকে,একই সময় হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন(রেজিঃ নং- ৮৯১) এর কার্যালয় থেকে পৃথক আর একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক মো. লিটন হোসেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন,সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ, সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবেদার রহমান, ক্যাশিয়ার শফিকুল ইসলাম, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক গোলাম মোস্তফা এবং আইন ও শ্রমিক সম্পাদক অহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকরা।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও র্যালিতে উপস্থিত থেকে শ্রমিকদের উৎসাহিত করেন। র্যালি শেষে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক সংগঠন দুটি’র দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
ইতিহাসের পাতা থেকে যতটুকু জানা যায়,পূর্বে শ্রমিকদের অমানবিক পরিশ্রম করতে হত, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা আর সপ্তাহে ৬ দিন। বিপরীতে মজুরী মিলত নগণ্য, শ্রমিকরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করত, ক্ষেত্রবিশেষে তা দাসবৃত্তির পর্যায়ে পড়ত।
শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের “দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার” দাবী অফিসিয়াল স্বীকৃতি পায়। আর পহেলা মে বা মে দিবস প্রতিষ্ঠা পায় শ্রমিকদের দাবী আদায়ের দিন হিসেবে, পৃথিবীব্যাপী আজও তা পালিত হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন