ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে- এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি যেন ‘শ্বাসরুদ্ধ’ অবস্থায় রয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব জানান, হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘চোকপয়েন্ট’, যার মাধ্যমে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জরুরি পণ্য পরিবাহিত হয়। সেখানে নৌ-চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই যদি সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়, তবুও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। এর ফলে উৎপাদন কমে যাবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকবে।
গুতেরেস তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তার মতে, সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩.১ শতাংশে নেমে আসবে, আর মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াবে ৪.৪ শতাংশে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি কমে যাবে। পরিস্থিতি যদি আরও খারাপের দিকে যায়, অর্থাৎ ইরানের হামলার আশঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে থাকে, তাহলে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে পড়তে পারে। একই সঙ্গে আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম খাদ্যসংকটে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। সারের সংকট ও কৃষি উৎপাদন কমে গেলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
আর যদি বছরের শেষ পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তার। এর প্রভাব পড়বে মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, এমনকি রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও।
সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গুতেরেস বলেন, অবিলম্বে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রণালি খুলে দিন, জাহাজ চলাচল করতে দিন, বিশ্ব অর্থনীতিকে আবার স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে দিন, জোর দিয়ে বলেন তিনি। সূত্র: দ্য ডন
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব