ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ভেসে চলা একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী হঠাৎই পরিণত হয়েছে আতঙ্কের কেন্দ্রে। অজানা উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়া যাত্রীদের মধ্যে পরে শনাক্ত হয়েছে বিরল ও প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ। ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুরু হয়েছে ব্যাপক তদন্ত ও সমন্বিত পদক্ষেপ।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলকারী এমভি হন্ডিয়াস নামের একটি প্রমোদতরীতে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে অন্তত একজনের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়া এই ভাইরাসকে বিরল হলেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন প্রমোদতরীটিতে সম্ভাব্য সংক্রমণের উৎস ও বিস্তার নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। জাহাজটি আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল।
রোববার (৩ মে) এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, একজনের শরীরে ভাইরাসটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে এবং আরও অন্তত পাঁচজন যাত্রী আক্রান্ত হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং একজন বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডব্লিউএইচও আরও জানায়, ঘটনাটি ঘিরে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও মহামারিবিদ্যাগত বিশ্লেষণ। পাশাপাশি যাত্রী ও ক্রুদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভাইরাসটির জিনগত বিশ্লেষণও চালানো হচ্ছে।
এদিকে আরও দুই যাত্রীর মধ্যে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হান্টাভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মল বা মূত্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রমোদতরীটিতে ‘তীব্র শ্বাসযন্ত্রজনিত অসুস্থতার’ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরেকজন জোহানেসবার্গে নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফস্টার মোহালে নিশ্চিত করেছেন, জোহানেসবার্গে চিকিৎসাধীন এক রোগীর শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তিনি জানান, প্রথমে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে প্রমোদতরীতেই মারা যান। তার মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আটলান্টিকের ব্রিটিশ ভূখণ্ড সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে।
পরে তার ৬৯ বছর বয়সী স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেওয়া হয়। জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মোহালে আরও জানান, মৃত ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা ৬৯ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিক বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম