রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কিডনির ক্ষতি অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে না। ফলে অজান্তেই তা জটিল রূপ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ বা Chronic Kidney Disease-এ পরিণত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সতর্ক সংকেত আগে থেকেই চিনতে পারলে কিডনি ফেইলিওরের মতো মারাত্মক পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
নিচে কিডনি ড্যামেজের এমন ৬টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো
১. ফেনা বা বুদবুদযুক্ত প্রস্রাব
প্রস্রাবে নিয়মিত ফেনা বা বুদবুদ দেখা গেলে তা হতে পারে প্রোটিনুরিয়ার লক্ষণ। এ অবস্থায় কিডনির ফিল্টারিং ইউনিট Glomerulus প্রোটিন (যেমন অ্যালবুমিন) প্রস্রাবে যেতে দেয়। এটি কিডনির ক্ষতির একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত।
২. গোড়ালি, পা বা চোখের চারপাশে ফোলাভাব
কিডনি ঠিকভাবে লবণ ও পানি ছেঁকে বের করতে না পারলে শরীরে তরল জমে যায়। ফলে গোড়ালি, পা এবং চোখের চারপাশে ফোলাভাব দেখা দেয়—বিশেষ করে সকালে।
৩. প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি, বিশেষ করে রাতে
বারবার প্রস্রাবের চাপ, বিশেষ করে রাতে (নকটুরিয়া), কিডনি কার্যকারিতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এতে কিডনি প্রস্রাব ঘনীভূত করতে ব্যর্থ হয়।
৪. ক্লান্তি ও দুর্বলতা
সুস্থ কিডনি Erythropoietin নামক হরমোন তৈরি করে, যা রক্তকণিকা উৎপাদনে সহায়তা করে। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ হরমোন কমে যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
৫. অনবরত চুলকানি
কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমে যায়, যা তীব্র চুলকানির সৃষ্টি করে। এই অবস্থাকে Pruritus বলা হয় এবং সাধারণ লোশন বা ক্রিমে সহজে উপশম হয় না।
৬. ক্ষুধামন্দা ও বমিভাব
রক্তে টক্সিন জমে গেলে হজমে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ক্ষুধা কমে যায়, বমিভাব, মুখে দুর্গন্ধ এমনকি বমিও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। কারণ, সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে কিডনির জটিলতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম