আকরাম হোসেন রিপন, কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিয়াজউদ্দিন সুমন (৩৭) চার বছর আগে নৃশংসভাবে খুন হলেও এখনো হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মামলাটি বর্তমানে গাজীপুর সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও আর্থিক কারণে সে সময় কাপাসিয়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু পুলিশ কর্মকর্তা মামলার আলামত নষ্ট করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরের কান্দানিয়া গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের দুই মেয়ের পর একমাত্র ছেলে ছিলেন সুমন। পিতার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় তাকে। জীবিকার তাগিদে প্রথমে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদে চাকরি নিলেও অজ্ঞাত কারণে চাকরি হারান। পরে তিনি রাইড শেয়ারিং পেশায় যুক্ত হন এবং প্রায় দুই বছর এ কাজ করেন।
২০২২ সালের ৩ মে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সকালে উপজেলার টোক ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামের মমিন বাজার-গাংকুলকান্দি সড়কের একটি ব্রিজের পাশে হাফিজ উদ্দিনের ধানক্ষেত থেকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর সঙ্গে তিন দিন লড়াই করে ৬ মে তিনি মারা যান।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী শাহানাজ (৩৮), শারীরিক প্রতিবন্ধী কন্যা রায়হা রিয়াজ (১৩) এবং ছেলে সামির (৮) রেখে গেছেন।
সুমনের স্ত্রী শাহানাজ বলেন, “মৃত্যুর আগে আমার স্বামী ঢাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর কাজ করতেন। ঈদের আগের দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমার সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তিনি ঢাকা থেকে কাপাসিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। পরদিন সকালে জানতে পারি, আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি। আমি এখন সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি। স্বামী হত্যার বিচার এখনো পাইনি। আমি সরকারের কাছে বিচার চাই।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাসেম জানান, ভোর ছয়টার দিকে গ্রামবাসী সুমনকে প্রায় মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে খবর দেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলের পাশেই তার মোটরসাইকেল এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়।
মামলার বাদী ও সুমনের বড় বোন নাছরিন সুলতানা (পলি) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সুমন হত্যার চার বছর পার হলেও এখনো রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাজাহার আমাদের বলেছিলেন ১৫ দিনের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সরকারের কাছে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাজাহার হোসেন বলেন, “মামলা তদন্তে আমার কোনো গাফিলতি ছিল না। রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব না হওয়ায় মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।”
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। আশা করছি খুব দ্রুতই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে সফল হব।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুমনের স্বজনরা জানান, মামলার তদন্তে তারা পুলিশকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করেছেন। তাদের ধারণা, ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন