রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেছেন, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ-কেন্দ্রিক জেলেদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা সহজ শর্তে ঋণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পাবেন। একই সঙ্গে হ্রদের নাব্যতা পুনরুদ্ধারে খনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার দুপুরে রাঙ্গামাটি বিএফডিসি আয়োজিত কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও মাছ আহরণ বন্ধকালীন জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাপ্তাই হ্রদ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিঠাপানির জলাশয় হলেও আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময় মাছ আহরণ বন্ধ রাখা জরুরি। এ সময় জেলেদের সহায়তায় সরকার ভিজিএফের মাধ্যমে খাদ্যশস্য দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হ্রদের পরিবেশ রক্ষায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলেরা ভিজিএফ চালের পরিমাণ ২০ কেজি থেকে ৪০ কেজি করার দাবি জানান। পাশাপাশি নিষিদ্ধ মৌসুমে সুদমুক্ত ঋণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দাবি তোলেন তারা। ব্যবসায়ীরা হ্রদে কোস্ট গার্ড মোতায়েন এবং উৎপাদিত মাছ রপ্তানির উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদনির্ভর প্রায় ২৭ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে তাদের আর্থিক সুরক্ষা বাড়বে এবং মৎস্য খাত আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ইমাম উদ্দিন কবীরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয় এবং কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
রিপোর্টার্স/এসএন