স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণে প্রকৌশলীদের অবদানকে স্মরণ করে উদযাপিত হলো ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
‘উন্নত প্রযুক্তি, উন্নত দেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতিনিধি, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে প্রকৌশলীদের ভূমিকা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রবীণ ও নবীন প্রকৌশলীদের সম্মিলিত উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নির্মাণেও প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, দেশের উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই করতে প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। তিনি তরুণ প্রকৌশলীদের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের সেতু, সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ প্রকৌশলী তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আইইবির নেতারা জানান, ১৯৪৮ সালের ৭ মে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় ধরে দেশের প্রকৌশলীদের পেশাগত অধিকার, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও জাতীয় উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী প্রকৌশল খাত গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সংগঠনটি গুরুত্ব দিচ্ছে।
দিনব্যাপী আয়োজনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সম্মাননা প্রদান কর্মসূচির পাশাপাশি প্রকৌশল শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নিয়েও মতবিনিময় হয়। তরুণ প্রকৌশলীরা জানান, দেশের উন্নয়নযাত্রায় আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হতে তাঁরা নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণায় মনোযোগী হতে চান।
সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে পুরো আইইবি প্রাঙ্গণ, যেখানে প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব