কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : ২৫শে বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে কুঠিবাড়ির মূলমঞ্চে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসানসহ অন্যান্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, রবীন্দ্র কুঠিবাড়িকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে যৌথভাবে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কুঠিবাড়ি বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে অনন্য স্থান দখল করে আছে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত যত দর্শনীয় স্থান রয়েছে, সেসব স্থানকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে।
পরে বিশ্বকবি রচিত জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।
এদিকে তিনদিনের এই জন্মোৎসবকে ঘিরে রবীন্দ্রপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণ। এবারের আয়োজনকে ঘিরে তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, জমিদারি দেখাশোনার জন্য ১৮৯১ সালে প্রথম এই কুঠিবাড়িতে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নিরিবিলি পরিবেশ, জমিদারি ও ব্যবসায়িক কাজের সূত্রে বারবার কুষ্টিয়ার এই কুঠিবাড়িতে ফিরে আসতেন তিনি। নিভৃত বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কবির জীবনের বেশ কিছু মূল্যবান সময় কেটেছে। এখানে বসে রচিত ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যই রবীন্দ্রনাথকে এনে দেয় নোবেল পুরস্কার ও বিশ্বকবির মর্যাদা। এছাড়াও তিনি এখানে বসেই আমাদের জাতীয় সংগীতসহ অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম রচনা করেছেন। কুঠিবাড়িতে সংরক্ষিত আছে সেই সময়ের নানা স্মৃতি।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন