স্টাফ রিপোর্টার: পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, লক্ষাধিক বাংলাদেশি বর্তমানে তুরস্কে বসবাস করছেন এবং বাংলাদেশিরা তুরস্কের জনগণকে বন্ধুত্বপূর্ণ জাতি হিসেবে মনে করে।
শনিবার (৯ মে) “তুরস্কের কপ–৩১ অভিমুখে: সহনশীল নগর” শীর্ষক দুদিনব্যাপী আয়োজনে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে মাত্র ০.৩৫ শতাংশ অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। বন উজাড়, দ্রুত নগরায়ণ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দেশের পরিবেশ ও জনজীবন ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বৈশ্বিক আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আসন্ন কপ–৩১ সম্মেলনে একটি বিশেষ এজেন্ডা উপস্থাপন করবে, যাতে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায়।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে ফোকাল পারসন নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান, জলবায়ু ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো কার্যকরভাবে তুলে ধরবেন।
তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ন্যায্য অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশমন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো ও নগর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অর্থায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু তহবিলের কার্যকর ব্যবস্থা ও দ্রুত অর্থ ছাড় অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের সম্পদ রয়েছে। এখন তহবিল প্রদানের পাশাপাশি জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব