| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

খাদ্য নিরাপত্তা ও সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার সহায়তা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৭, ২০২৬ ইং | ১৪:৪৩:২৬:অপরাহ্ন  |  ৫২৫ বার পঠিত
খাদ্য নিরাপত্তা ও সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার সহায়তা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

সিনিয়র রিপোর্টার: বৈশ্বিক বাজারে সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের দুটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। শনিবার (২৭ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আয় সংকুচিত হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র কৃষক, নিম্নআয়ের মানুষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক তাৎক্ষণিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো কৃষি উৎপাদন সচল রাখা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবাগুলো কার্যকর রাখতে সহায়তা করবে।

‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন করা হবে। এই অর্থ ব্যবহার করে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে তার মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে, যার প্রায় অর্ধেকই হবে ইউরিয়া সার।

বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট এবং প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার সুলেইমান কুলিবালি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা মূলত আমন ও বোরো মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশের জোগান দেয়। ফলে সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তা শুধু খাদ্য উৎপাদন নয়, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।তার মতে, এই সহায়তার মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা ক্ষুদ্র কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।


অন্যদিকে, ‘কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৭১৩ মিলিয়ন বা ৭১ দশমিক ৩ কোটি মার্কিন ডলার দ্রুত বিতরণ করা হবে।

এই তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নগদ সহায়তা এবং জীবিকা নির্বাহে অনুদান দেওয়া হবে। এর ফলে সংকটকালীন সময়ে তাদের আয় ও কর্মসংস্থান ধরে রাখা সহজ হবে।

এছাড়া খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি ও নিরাপদ পানির মতো জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে এই অর্থ ব্যবহৃত হবে। প্রকল্পের অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার লেসলি জিন ইউ কর্ডেরো বলেন, বিশ্বব্যাংকের ‘ক্রাইসিস প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স টুলকিট’-এর আওতায় বাংলাদেশ দ্রুত এই তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাতে সম্পদ বরাদ্দ করা হবে। এর ফলে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধাক্কা ও সংকটের প্রভাব থেকে মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪