রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে চীনকে ঘিরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বেইজিং সফর শেষ হওয়ার পরপরই আগামী সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এবং হংকংভিত্তিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২০ মে এক দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে বেইজিং যেতে পারেন পুতিন। যদিও সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি মূলত মস্কো ও বেইজিংয়ের নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের অংশ। তাই ট্রাম্পের সফরের মতো বড় ধরনের আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ বা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের সম্ভাবনা কম। তবে সময়ের দিক থেকে সফরটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
দীর্ঘ নয় বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প তিন দিনের সফরে চীন যান। সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে তার বাণিজ্য যুদ্ধ, তাইওয়ান সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের সফর শেষ হতেই পুতিনের সম্ভাব্য বেইজিং সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, একই মাসে বিশ্বের দুই প্রভাবশালী নেতাকে আতিথেয়তা দিয়ে চীন বৈশ্বিক কূটনীতিতে নিজেদের কেন্দ্রীয় অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিচ্ছে।
এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে শি জিনপিং ও পুতিনের মধ্যে সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, পুতিনের সফরের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তবে তিনি দাবি করেন, এই সফরের সঙ্গে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।
এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সফরসংক্রান্ত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই সফর নতুন ভূরাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি