স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর কাফরুলে বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা না পেয়ে সৎমাকে চাপাতি দিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রায় দুই দশক পর রায় দিয়েছেন আদালত। বহুল আলোচিত এ মামলায় মো. শামসুল হক জুয়েলকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে কাফরুল থানার দক্ষিণ কাফরুলের ২৩০/এ নম্বর এলাকার একটি বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত সালেহা বেগম ছিলেন মামলার বাদী মো. আ. হকের দ্বিতীয় স্ত্রী। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শামসুল হক জুয়েল ছিলেন প্রথম পক্ষের ছেলে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বাবার কাছে টাকা দাবি করছিলেন জুয়েল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাসায় এসে সৎমার দেওয়া খাবার খাওয়ার পর আবারও টাকার বিষয় নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তর্কে জড়ান তিনি।
একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সঙ্গে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে সালেহা বেগমের মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।
চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন নিহতের মেয়ে সাহানারা আক্তার সুখী ও ছেলে আজিজুল হক ইমন। তারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং জুয়েলকে চাপাতি হাতে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখেন।
মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর সালেহা বেগমের গলা থেকে একটি সোনার চেইন, দুটি আংটি ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যান জুয়েল। পাশাপাশি ছোট বোনকে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সালেহা বেগমকে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০০৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিহতের স্বামী মো. আ. হক কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আবুল কালাম আজাদ আদালতে বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পারিপার্শ্বিক আলামতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষ দাবি করে, ঘটনার সময় জুয়েল ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং তিনি নির্দোষ। তবে আদালত উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সেই দাবি গ্রহণ করেননি।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামি পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়, পলাতক আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে এবং অর্থদণ্ড আদায়ের জন্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত শামসুল হক জুয়েলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বাধুলী এলাকায়। মামলার নথিতে তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকার কাফরুল থানার কচুক্ষেত বউবাজার এলাকার হাসান মাতব্বরের মাচ্ছা বাড়ি উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি