বগুড়া প্রতিনিধি: প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ ডেসিমেল জমির ওপর নির্মিত হয়েছে অত্যাধুনিক কসাইখানা। এই কসাইখানায় প্রতি ঘণ্টায় ১৫টি গরু এবং ৩০টি ছাগল বা ভেড়া জবাই ও প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেভেলপমেন্ট অব লাইভস্টক সার্ভিসেসের আওতায় ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর কসাইখানাটি বগুড়া সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গত ১৭ মে বগুড়া শহরতলীর জয়পুরপাড়ায় নবনির্মিত আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এটি অত্যন্ত নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে রোগমুক্ত মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি আধুনিক কসাইখানা। দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের কসাইখানা থাকা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা যত্রতত্র পশু জবাই করি, যা পরিবেশ দূষণ ও রোগ ছড়ানোর কারণ হয়। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
কসাইখানাটি চালু হলে যত্রতত্র গরু ও ছাগল জবাইয়ের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমবে। পাশাপাশি মাংস ব্যবসায়ীদের শ্রম ও সময়ও সাশ্রয় হবে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান জানান, আধুনিক কসাইখানাটি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর শহরে যত্রতত্র পশু জবাই করতে দেওয়া হবে না। এখান থেকে জবাই ও প্রক্রিয়াজাত করা মাংসে সিটি করপোরেশনের সিল দেওয়া হবে। সিলবিহীন মাংস না কেনার জন্য জনগণকে সচেতন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কসাইখানায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা নেই। এটি চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। মাসিক খরচ দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ থেকে ৯ লাখ টাকা।
নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রতিটি পশু প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ এখনও নির্ধারণ হয়নি। তবে দৈনিক ৩০টি গরু প্রক্রিয়াজাত করা গেলে গরুপ্রতি সম্ভাব্য চার্জ প্রায় এক হাজার টাকা হতে পারে।
বগুড়া সিটির প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, আধুনিক কসাইখানাটি এখন আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ঈদের পর হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম বলেন, এটি সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত হালাল কসাইখানা। এখানে ধর্মীয় বিধান মেনে পশু জবাই করা হবে। মেশিনের মাধ্যমে চামড়া ছাড়ানো, মাংস কাটা ও নাড়িভুঁড়ি আলাদা করার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে এটি স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব