কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার জেলা কারাগারে ভুয়া পরিচয়ে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন এক নারী ও এক পুরুষ বন্দি। ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার ও বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৭ মে) কাউসার বিবি ও হারুন আমিন নাম ব্যবহার করে দুই বন্দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে আনা হয়। ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পিআইডিএস (Prisoners Inmate Database System)-এ তাদের ব্যক্তিগত তথ্য, মামলা-সংক্রান্ত নথি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ স্ক্যান সংযুক্ত করা হলে পরিচয় গোপনের বিষয়টি ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে কারা কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, তাদের প্রকৃত নাম জান্নাত আরা ও কামাল হোসেন। তারা সম্পর্কে আপন ভাই-বোন। তাদের বাবার নাম জাহিদ হোসেন এবং মায়ের নাম সেতারা।
অভিযোগ রয়েছে, তারা নিজেদের খালাতো ভাই-বোনের পরিচয় ব্যবহার করে কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন।
কারা সূত্র জানায়, ওই দুইজন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং এর আগেও মাদক মামলায় কারাভোগ করেছেন। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। নতুন কোনো বন্দি কারাগারে এলে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইরিশ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য পিআইডিএসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে আগে কারাভোগ করা কেউ ভিন্ন পরিচয়ে পুনরায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, আগের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, পলাতক অবস্থা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে তারা পরিচয় গোপনের চেষ্টা করে থাকতে পারে। তবে পিআইডিএসে তথ্য সংরক্ষিত থাকায় পুনরায় কারাগারে এলে কোনো তথ্য গোপন রাখা সম্ভব নয়।