| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা: মামলায় আসামি ৩ শতাধিক

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৬, ২০২৬ ইং | ১৯:১০:০৭:অপরাহ্ন  |  ৮০৪ বার পঠিত
জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা: মামলায় আসামি ৩ শতাধিক

স্টাফ রিপোর্টার: সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনশ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) রাতে সীতাকুণ্ড থানায় ফৌজদারহাট ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, উস্কানি দিয়ে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি এবং বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে গত রোববার গভীর রাতে মূল সড়কের একাধিক স্থানে রাস্তা কেটে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ত্রিমুখী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দুই ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্পও ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্যাম্প নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, ট্রাকে করে এক্সক্যাভেটর এনে হামলাকারীরা অভিযান চালায়। তাদের পেছনে মোটরসাইকেলে আরও লোকজন ছিল। আলীনগর স্কুলের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে তারা হামলা শুরু করে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গুলিও ছোড়া হয়।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসীরা দুর্গম ও ভাঙা যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছে। আমরা যখন রোববার রাতে এখানে ঢুকেছি, তখন দেখেছি রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ডিচ করে রাখা হয়েছে। সামনে আরও চারটি ডিচ করা হয়েছিল। ফলে আমাদের যানবাহন এগোতে পারেনি। সদস্যদের হেঁটে যেতে হয়েছে। এতে সময় লেগেছে এবং সেই সুযোগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, রোববার দিবাগত রাত একটার পর থেকে হামলার ঘটনা শুরু হয়। সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশের সড়কের কয়েকটি অংশ কেটে দেয়। একই সঙ্গে আলিনগর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি অস্থায়ী ক্যাম্প লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প ছিল। একটি প্রবেশমুখে এবং অন্যটি আলিনগর এলাকায়। নতুন যে অস্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছিল, সেটিই ছিল হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য। সেখানে যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্থায়ীভাবে অবস্থান নিতে না পারে, সে উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। আলিনগর স্কুলে র‍্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আরআরএফ সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীরা চেয়েছিল, বাহিনীর সদস্যরা যেন ক্যাম্প থেকে বের হতে না পারেন। এজন্য কিছু ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। পাল্টা জবাবে যৌথ বাহিনীর সদস্যরাও শটগান, চাইনিজ রাইফেল ও গ্যাস গান ব্যবহার করেন।

পুরো ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ১০৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে জানিয়ে এসপি মাসুদ আলম বলেন, কঠোর প্রতিরোধের কারণে হামলাকারীরা ক্যাম্পে ঢুকতে পারেনি এবং বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি। তবে হামলাকারীরা এক্সক্যাভেটর দিয়ে ক্যাম্পের কিছু অবকাঠামো ভেঙে ফেলেছে। রাস্তা কেটে দেওয়ায় অনেককে হেঁটে ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছে। শেষ রাতে হামলাকারীরা পাহাড়ি এলাকায় সরে যায়। জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কোটি কোটি টাকার স্বার্থ জড়িত থাকায় সন্ত্রাসীরা আধিপত্য ধরে রাখতে এ হামলা চালিয়েছে। দ্রুত সড়ক নির্মাণ হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ৮০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হবে।

জানা গেছে, নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক থেকে পাহাড়ি পথ ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রবেশ করতে হয়। ছিন্নমূল ও আলীনগর—এই দুই অংশে বিভক্ত এলাকাটিতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মার্চ ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় তৎকালীন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও বর্তমানে র‌্যাবের মহাপরিচালক মো.আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযানে অংশ নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৮৭ জন সদস্য, জেলা পুলিশের ১৪৬ জন সদস্য, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৮০০ জন সদস্য, আরআরএফ চট্টগ্রামের ৪০০ জন সদস্য, ফেনী জেলা পুলিশের ১০০ জন সদস্য, পার্বত্য জেলার ৩০০ জন সদস্য, এপিবিএনের ৩৩০ জন সদস্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১২২ জন সদস্য এবং র‌্যাবের ৩৭১ জন সদস্যসহ সর্বমোট ৩ হাজার ১৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অংশ নিয়ে ছিল। এছাড়া সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এর আগে চারবার এই এলাকায় অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। এবার পঞ্চমবারের মতো অভিযান চালিয়ে যৌথবাহিনী সফল হয়েছে।  একই সঙ্গে এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও র্যাবের একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। প্রায় ২০০৩ সাল থেকে একটি চক্র সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে এখানে অবৈধভাবে জমির কাগজ তৈরি, জমি দখল ও হস্তান্তরের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। পরিস্থিতি এমন ছিল যে- সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এলাকায় প্রবেশ করতে ভয় পেত।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪