রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই পে স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে জোরেশোরে কাজ করছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও সুবিধা পাবেন।
বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনাকেই সরকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২১ মে সচিবালয়ে নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করতে গঠিত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ বিষয়ে নানা সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন কাঠামোয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগসহ সরকারি চাকরির সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর জন্যও আলাদা সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যাতে তারাও সমানভাবে সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সচিব কমিটির বৈঠকে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন পে স্কেল কার্যকর করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম