বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কাষ্টবাড়িয়া-চিত্রা গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত একটি খালের বাঁধ অপসারণ করেছে গ্রামবাসী। এ ঘটনায় সরকারি খালের বাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগে প্রতিপক্ষ মামলা করে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার কাষ্টবাড়িয়া গ্রামের ইকরামুল শেখ ও তার সহযোগীরা মদরানা খালের ওপর আড়াআড়িভাবে বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেন। এতে চিত্রা ও কাষ্টবাড়িয়া গ্রামের শত শত বিঘা ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ে। এছাড়া এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর বলে দাবি করেন গ্রামবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার খালটির আশপাশে বসবাস করে। বর্ষা মৌসুমে খালটি বন্ধ থাকলে কবরস্থান, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি খালের পাশে বসতি স্থাপন করে প্রথমে পাইপ বসান, পরে ধীরে ধীরে খালের অংশ ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করেন।
এ ঘটনায় গ্রামবাসী পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার স্বার্থে তিনি বাঁধ অপসারণের পরামর্শ দেন বলে স্থানীয়রা জানান।
পরবর্তীতে গ্রামবাসী বাঁধ অপসারণ করতে গেলে খালে বাঁধ নির্মাণকারী পক্ষের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে বিএনপি নেতা আসাদ শেখ, ফজলুর রহমান, লিপন, তৈয়ব আলী, তাহের আলী ও তাহিদুলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসী। তাদের দাবি, এ মামলা হয়রানিমূলক।
অভিযোগের বিষয়ে ইকরামুল শেখ বলেন, “ওখানে কোনো খাল নেই, এটি আমার নিজস্ব জায়গা। তাই সেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে।”
গ্রামবাসী মদরানা খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন