ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে জগমোহন চন্দ্র রায় নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১ নম্বর আসামি সুশীল চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী। এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে বিকেলে উপজেলার দেওগাঁও (প্রভাতপাড়া) গ্রামে মামলার বাদী সুমন চন্দ্র রায়ের পাঁচ বছরের ছেলে মুকুলের সঙ্গে প্রতিবেশী সুশীল চন্দ্র রায়ের ছয় বছরের ছেলে শ্যামলের খেলা নিয়ে ঝগড়া হয়। তখন সুমন দুই শিশুকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে শান্ত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুশীল সুমনের বাড়ির আঙিনায় এসে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন।
একপর্যায়ে সুশীলের পক্ষে চঞ্চল চন্দ্র রায়, হরিন্দ্রনাথ রায়, রতন চন্দ্র রায় ও অখিল চন্দ্র বর্মন লাঠিসোটা নিয়ে সুমনের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন। সুমনের বাবা জগমোহন চন্দ্র রায় বাধা দিতে গেলে আসামিরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। প্রধান আসামি সুশীল তখন জগমোহনের গলা টিপে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন। জগমোহনের মুখ দিয়ে সাদা ফেনা বের হতে থাকলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে চলে যায়।
গুরুতর অবস্থায় জগমোহনকে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই গতকাল তাঁর মৃত্যু হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী সুমন চন্দ্র রায় বলেন, “সামান্য বাচ্চাদের খেলাধুলার ঝগড়া নিয়ে প্রতিবেশীরা যে এভাবে আমার প্রবীণ বাবাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করবে, তা আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের ওপর চরম অন্যায় করা হয়েছে। চোখের সামনে বাবাকে ছটফট করে মরতে দেখেছি। আমি প্রশাসনের কাছে আমার বাবার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি শাহজাহান আলী বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিয়মিত হত্যা মামলা করা হয়েছে। প্রধান আসামি সুশীলকে আজই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন