ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় তামিম ইসলাম (১০) নামে এক শিশুকে রশি দিয়ে গরুর সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাওছার মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে অভিযুক্তকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী তামিম ইসলাম বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা। সে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়া গ্রামের চেরাগ আলীর বাড়িতে লজিং থেকে স্থানীয় মারকাজুল কুরআন মাদরাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে মাদরাসার সীমানার ভেতরে কাওছার মৃধার একটি গরু ঢুকে গাছপালা খেতে শুরু করলে তামিম সেটিকে তাড়িয়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কাওছার মৃধা শিশুটিকে রশি দিয়ে গরুর সঙ্গে বেঁধে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গরুটি দৌড়াতে শুরু করলে তামিমকে টেনে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে রশি তার গলায় পেঁচিয়ে গেলে শ্বাসরোধের উপক্রম হয়। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। রশির চাপে তার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকালে নওয়াপাড়া ও কুচিয়াগ্রাম এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন। তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় যুবসমাজ অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেয়।
পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘একজন কোমলমতি শিশুর ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।’
লজিং মালিক চেরাগ আলী বলেন, তামিম আমার সন্তানের মতো। তার সঙ্গে এমন নির্মম আচরণে আমি মর্মাহত। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আসাদুজ্জামান বলেন, তামিম আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
অভিযুক্তের ছোট ভাই বিশু মৃধা বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তিনি জানেন না। পুলিশ তার ভাইকে আটক করেছে। তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে কাওছার মৃধাকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত মামলা হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি