স্পোর্টস ডেস্ক: প্রায় পুরো ম্যাচজুড়ে পিছিয়ে থাকার পর শেষ ৫ মিনিটে দুই গোল করে সেনেগালের বিপক্ষে অবিশ্বাস্যভাবে ২-২ সমতায় ফিরেছে বেলজিয়াম। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই লড়াই নির্ধারিত সময়ে অমীমাংসিত থাকায় ম্যাচ গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। এর ফলও পেয়ে যায় তারা ২৫তম মিনিটে। সাদিও মানের দারুণ আক্রমণ থেকে ইসমাইলা সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে সহজেই জাল খুঁজে নেন হাবিব দিয়ারা। এতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি।
প্রথমার্ধে বেলজিয়াম আক্রমণের কিছু চেষ্টা চালালেও উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং সেনেগালই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে এবং গোলের আরও কয়েকটি সুযোগ সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৭০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সার। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে শক্তিশালী ডান পায়ের শটে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তিনি। তবে গোলটির পেছনে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় রোমেলু লুকাকুকে। আর তাতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৮৬তম মিনিটে থমাস মুনিয়েরের ক্রস থেকে নিকট পোস্টে দুর্দান্ত ফ্লিকে গোল করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ফেরান লুকাকু।
এর মাত্র তিন মিনিট পর আসে নাটকীয় সমতার গোল। ৮৯তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে জাল খুঁজে নেন ইউরি তিলেমানস। গোলরক্ষক ইয়েহভান দিয়াও বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সমতা রক্ষা করতে পারেননি।
গোলটি নিয়ে সেনেগালের খেলোয়াড়রা ফাউলের অভিযোগ তুললেও রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।
ম্যাচজুড়ে সেনেগাল ছিল অনেক বেশি সংগঠিত, গতিময় ও আক্রমণাত্মক। বেলজিয়ামের তুলনায় তারাই বেশি সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং দীর্ঘ সময় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবে শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে ইউরোপের দলটি।
অতিরিক্ত সময়ে ওঠার আগে শেষদিকে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। অন্যদিকে সেনেগালও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যায়। ফলে ম্যাচের বাকি অংশে আরও উত্তেজনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি