| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কেনাকাটা লেনদেন হালাল না হারাম?

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১০, ২০২৬ ইং | ২০:০১:২৬:অপরাহ্ন  |  ৪০১৭ বার পঠিত
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কেনাকাটা লেনদেন হালাল না হারাম?

রিপোর্টার্স ডেস্ক: ভার্চুয়াল মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে যে কোনো ধরনের পণ্য বা সেবা কেনাবেচা ইসলামি আইন (শরিয়াহ) অনুযায়ী জায়েজ (বৈধ) নয় বলে ফতোয়া দিয়েছেন পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচির প্রেসিডেন্ট এবং ফেডারেশন অব আরব স্কুলের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘দি নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা যায়, উসমানি দেশটির কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ‘উইফাক-উল-মাদারিস আল-আরাবিয়া পাকিস্তান’ ও জামিয়া দারুল উলুম করাচির সভাপতি। 

ফতোয়ায় বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইসলামি বিধিবিধানে বর্ণিত ‘মাল’ বা সম্পদের শর্তাবলি পূরণ করে না, যার ফলে এটি কেনাবেচার জন্য বৈধ কোনো সম্পদ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এখন পর্যন্ত পাওয়া বিশেষজ্ঞ মতামত ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এতে উল্লেখ করা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বাস্তব বা শরিয়াহ-স্বীকৃত সম্পদ নয়, বরং ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু কাল্পনিক সংখ্যার সমষ্টি মাত্র।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ফতোয়াটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে হাসান উসমানি। তিনি জানান, ছড়িয়ে পড়া ফতোয়াটি নির্ভরযোগ্য ও সেটা প্রকৃতপক্ষে মুফতি উসমানিই জারি করেছেন।

ফতোয়া অনুযায়ী, বিটকয়েন, ইউএসডিটি, স্টেবলকয়েন কিংবা অন্য যেকোনো ক্রিপ্টো টোকেনের মাধ্যমে পণ্য কেনা বা লেনদেন করা শরিয়াহসম্মত নয়। ভার্চুয়াল কারেন্সি, ক্রিপ্টো টোকেন কিংবা স্টেবলকয়েন-যে নামেই এই ডিজিটাল সম্পদগুলো বাজারজাত করা হোক না কেন, সবগুলোর ক্ষেত্রেই একই শরিয়াহ নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং এগুলো সবই অবৈধ বলে গণ্য হবে।

মূলত এক ব্যক্তির লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই ফতোয়াটি জারি করা হয়। ওই ব্যক্তি জানতে চেয়েছিলেন, তিনি ক্রিপ্টো টোকেন ও ইউএসডিটি ব্যবহার করে এক বিক্রেতার কাছ থেকে দুটি বই কিনেছেন। এই লেনদেন ধর্মীয়ভাবে বৈধ কি না এবং বৈধ না হলে তার করণীয় কী।

এর পাশাপাশি প্রশ্নকারী অপর একটি অননুমোদিত কোর্স কেনার বিষয়েও নির্দেশনা চান। তিনি জানান, মূল মালিকের অনুমতি ছাড়া এক ব্যক্তি একটি শিক্ষামূলক কোর্সের উপাদান নকল করে এবং তা পুনরায় বিক্রির জন্য একটি গ্রুপ তৈরি করে। প্রশ্নকারী ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কোর্সটি কেনেন।

এই প্রশ্নের জবাবে ফতোয়ায় বলা হয়েছে, যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কেনাকাটা অনুমোদিত নয়, তাই প্রশ্নকর্তাকে বই দুটি বিক্রেতার কাছে ফেরত দিতে হবে।

ফতোয়া প্রদানকারী আলেমরা যুক্তি দেখিয়েছেন, ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী বৈধ মালিকানা এবং সম্পদের যে সংজ্ঞা রয়েছে, এই ডিজিটাল সম্পদগুলো তা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ফলে শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বা লেনদেন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। 

ইসলামি বাণিজ্যিক নীতিমালার আলোকে মুফতি তাকি উসমানির দেওয়া এই রুলিংটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ধর্মীয় বৈধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলো। সূত্র: এক মিনিটে ইসলাম

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪