| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০১, ২০২৬ ইং | ১৫:০৩:০৭:অপরাহ্ন  |  ৭২১ বার পঠিত
শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধানসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:২০১৯ সালের ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় সংঘটিত ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে দেশটির সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়াসুন্দরা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা সতর্কতা পাওয়ার পরও দুই কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হন। তাদের এই অবহেলার কারণেই শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের দিন ইসলামিক স্টেট (আইএস) থেকে অনুপ্রাণিত জঙ্গিরা শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে ধারাবাহিক আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। এতে দুই অস্ট্রেলীয় নাগরিকসহ ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ৫০০ জনেরও বেশি আহত হন।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক মানিক সুরিয়ারাচ্চি ও তার মেয়ে আলেক্সেন্দ্রিয়া। তারা রাজধানী কলম্বোর উত্তরের নেগোম্বোর একটি গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণের শিকার হন।

শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সম্ভাব্য আত্মঘাতী হামলার বিষয়ে শ্রীলঙ্কাকে সতর্ক করেছিল। ওই সতর্কবার্তায় ইসলামপন্থি উগ্রপন্থীদের হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদার বা হামলা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

বর্তমানে ৬৬ বছর বয়সী পুজিথ জয়াসুন্দরা এবং ৭৬ বছর বয়সী হেমাসিরি ফার্নান্দো এ রায়ের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন। তবে আপিল নিষ্পত্তি বা জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারেই থাকতে হবে।

যদিও আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন, তবে শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সালের পর থেকে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। ফলে আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত তাদের সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপ নিতে পারে।

ইস্টার সানডে হামলার কয়েক মাস পর, ২০১৯ সালে জয়াসুন্দরা ও ফার্নান্দোকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় চার মাস কারাগারে থাকার পর তারা জামিনে মুক্তি পান। পরে ২০২২ সালে তিন বিচারকের একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে খালাস দেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটির পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন। চলতি বছরের মার্চে পুনরায় বিচার শুরু হয় এবং সর্বশেষ আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

এর আগে একটি দেওয়ানি মামলায় হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দুই সাবেক কর্মকর্তাকে যৌথভাবে ১২ কোটি ৫০ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি দেয়, দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অবহেলা ছিল অত্যন্ত গুরুতর এবং তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও দায়ের করা হয়।

২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে নির্বাচনী প্রচারে ইস্টার সানডে হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক এ রায়কে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪