| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চুল বিক্রি করে ঘরভাড়া দেওয়া রেহানার পাশে প্রতিমন্ত্রী, মিলল ঘর-খাদ্য-অর্থ সহায়তা

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১০, ২০২৬ ইং | ০৬:৩৫:৩৯:পূর্বাহ্ন  |  ১০৮৭ বার পঠিত
চুল বিক্রি করে ঘরভাড়া দেওয়া রেহানার পাশে প্রতিমন্ত্রী, মিলল ঘর-খাদ্য-অর্থ সহায়তা

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ ঘর ভাড়া পরিশোধের টাকা জোগাড় করতে নিজের মাথার চুল মাত্র এক হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া বাগেরহাটের রামপালের অসহায় নারী রেহানা খাতুনের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তাঁর নির্দেশনায় রেহানার জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৯ আগস্ট) রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না ফেরদৌস এবং প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) অপু রায়হানসহ নেতাকর্মীরা রেহানার হাতে এসব সহায়তা তুলে দেন।

এর আগে রেহানার মানবেতর জীবনযাপনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সংবাদে উঠে আসে, দুই সন্তানকে নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। ঘর ভাড়া পরিশোধের টাকা জোগাড় করতে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল এক হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন।

রেহানা খাতুন (৩০) রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর এলাকায় খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে চার বছরের ছেলে রোহান ও তিন বছরের মেয়ে আলোমতিকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘরের কাঠামো তৈরি করলেও টিনের ছাউনি দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না তার। ফলে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সন্তানদের নিয়ে দিন কাটছিল তার।

রেহানার পারিবারিক জীবনও নানা সংকটে জর্জরিত। সংসারে অভাব-অনটনের পাশাপাশি রয়েছে প্রতিবন্ধী বোনের দায়িত্ব এবং ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত রেহানা খাতুন বলেন, এখন আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। পরিবার নিয়ে সুখে সংসার করতে পারব—এমন আশা করছি। আপনারা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, এতে আমি অনেক খুশি। আমার একটি প্রতিবন্ধী বোন ও ছোট দুটি সন্তান রয়েছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে যেন সুখে থাকতে পারি, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস বলেন,অভাবের তাড়নায় রেহানা মাথার চুল বিক্রি করে দিয়েছেন—এমন খবর জানার পর বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে অবহিত করা হয়। তাঁর নির্দেশনা এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রেহানাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক মাসের খাদ্যসামগ্রীও প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন,রেহানার নিজের কোনো ঘর ছিল না। তিনি খোলা জায়গায় ঘর বেঁধে বসবাস করছিলেন। তাই সরকারি ঘরের ব্যবস্থা করে তাকে আবাসনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় তাকে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে রেহানার জন্য যে অর্থ সহায়তা আসছে, তা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তার নামে ব্যাংক হিসাব খুলে সেখানে জমা রাখার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি ওই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রশাসন ও স্থানীয়দের এমন উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে রেহানা ও তার দুই সন্তানের জীবনে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪