রিপোর্টর্স২৪ ডেস্ক: ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। গত বছরের তুলনায় এবার গড় পাসের হার কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। ফলাফলে বেড়েছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও, যেখানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবার পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ এবং খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকরা তুলনামূলক কঠোর ছিলেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া যায় না।’
শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, শিক্ষকরা এবার খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, গান গাওয়ার ক্ষেত্রে মন খুলে উদার হওয়া গেলেও পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সময় নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই ধরনের উদারতা দেখানোর সুযোগ নেই।
তিনি বোঝাতে চান, পরীক্ষার্থীর প্রকৃত উত্তর ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নম্বর দিতে হবে। খাতা মূল্যায়নে অযথা বেশি নম্বর দেওয়ার সুযোগ নেই। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, যেখানে কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭টিতে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৪৮টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯টি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পরিস্থিতি আরও বড় পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছে। এবার এই বোর্ডের ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অথচ ২০২৫ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৬টি।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর এ বোর্ডের কোনো প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের ঘটনা না থাকলেও এবার ২৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
সব মিলিয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি গড় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
ফলাফলের এই পরিবর্তন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী মূলত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে প্রকৃত যোগ্যতার ভিত্তিতে নম্বর দেওয়ার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।
রিপোর্টর্স২৪/ঝুম