| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তীব্রতর, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১০, ২০২৬ ইং | ১৭:৫৪:৪৩:অপরাহ্ন  |  ৩৮৬ বার পঠিত
রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তীব্রতর, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জবাবে মস্কো ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি দ্রুতগতির ড্রোন ব্যবহারের মাত্রা বাড়িয়েছে। রাশিয়ার এসব অত্যাধুনিক অস্ত্রের বড় একটি অংশ ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে দেশটিতে বাড়ছে প্রাণহানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি।

এর মধ্যেই রাশিয়ার অস্ত্র উৎপাদন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এইচইউআর)। সংস্থাটির দাবি, মস্কো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হারে বাড়িয়েছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে ইউক্রেনের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম কিয়েভ পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচইউআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল, মে ও জুন—এই তিন মাসে রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ৩০২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

আরবিসি-ইউক্রেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার উপপ্রধান মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিতস্কি বলেন, রেকর্ডসংখ্যক ব্যালিস্টিক হামলার পরও রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করবে—এমন কোনো লক্ষণ নেই। কারণ মস্কো তাদের নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আরও কার্যকর বলে বিবেচিত অস্ত্রের পরীক্ষা ও উন্নয়নও চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

স্কিবিতস্কির ভাষ্য, রাশিয়া চাইলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কমাতে পারে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে হামলা বন্ধ করার সম্ভাবনা খুবই কম।

এর আগে কিয়েভ পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জুলাই মাসে রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে রেকর্ডসংখ্যক ৩৭৭টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছিল ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ ব্যবস্থা থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।

ইউক্রেনীয় তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার নিক্ষেপ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাত্র ৩৬টি প্রতিহত বা ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ২৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পেরেছে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে প্রতি চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে প্রায় তিনটিই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া একই সময়ে খ-১০১, কালিব্র ও খ-৩২ ধরনের ১৫৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করেছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে স্কিবিতস্কি বলেন, আগে রাশিয়া প্রায় ১০ দিন পরপর বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাত। পরে তা সপ্তাহে একবারে নেমে আসে। এখন হামলার ব্যবধান আরও কমে এসেছে।

ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া তাদের বেশ কয়েকটি প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি করছে। স্কিবিতস্কির দাবি, মস্কো বর্তমানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র মাসিক পরিকল্পনার তুলনায় ১১০ থেকে ১২০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি উৎপাদন করছে।

এমনকি চলতি বছরের ৩ আগস্টের মধ্যেই রাশিয়া জিরকন ও আধুনিকায়িত ওনিক্স ক্ষেপণাস্ত্রের বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ফেলেছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

স্কিবিতস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র সাত মাসে রাশিয়া ৩৩টি জিরকন ও ৬০টি ওনিক্স ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। মস্কো এখন তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর অস্ত্রগুলোর উৎপাদনে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সেসব কর্মসূচিতে বেশি অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করছে।

তবে সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন একইভাবে চলছে না। কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতার ভিত্তিতে রাশিয়া তাদের সামরিক সম্পদের পুনর্বিন্যাস করছে বলে দাবি করেছেন স্কিবিতস্কি।

তার তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে কিনঝাল ও খ-৩২ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। রাশিয়া মূলত খ-৩২ ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা বাড়ানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু ইউক্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে নিক্ষেপ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেটিকে পুনরায় উন্নয়নের জন্য ফেরত পাঠানো হয়। এরপর ওই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে।

একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা নিয়েও। স্কিবিতস্কির দাবি, কার্যকর একটি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার মাত্রা ৫ থেকে ৭ মিটারের মধ্যে থাকা উচিত। কিন্তু রুশ কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে তা ৩০ মিটার বা তারও বেশি হচ্ছে।

এ কারণে কিনঝাল ও খ-৩২ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ অর্থ অন্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন উৎপাদনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে রাশিয়া। স্কিবিতস্কির তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্ট মাসে মস্কো প্রায় ১১ হাজার অ্যাটাক ইউএভি তৈরির পরিকল্পনা করেছে।

এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার মূল নজর এখন টার্বোজেট ইঞ্জিনচালিত ‘গেরান-৪’ ও ‘গেরান-৫’ ড্রোনের দিকে। সাম্প্রতিক একটি রুশ হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের প্রায় অর্ধেকই ছিল টার্বোজেটচালিত বলে দাবি করেছেন তিনি।

এসব দ্রুতগতির ড্রোন প্রতিহত করতে ইউক্রেনের প্রয়োজন হচ্ছে ভিন্ন ধরনের ইন্টারসেপ্টর ও স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর চাপ আরও বাড়ছে।

মহাকাশ প্রযুক্তিতেও নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে রাশিয়া। ইলন মাস্কের স্টারলিংকের বিকল্প হিসেবে ‘রাসভিয়েত’ নামে নিজস্ব স্যাটেলাইট যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে মস্কো কাজ দ্রুততর করেছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।

গত মার্চে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ১৬টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে রাশিয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ২৯২টি এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯২৪টি স্যাটেলাইট নিয়ে একটি বিশাল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে মস্কোর।

ইউক্রেনের দাবি, বর্তমানে এই ব্যবস্থা তাদের ভূখণ্ডের ওপর সীমিতভাবে কাজ করলেও ভবিষ্যতে পুরোপুরি কার্যকর হলে এটি স্টারলিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার মতে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প, লজিস্টিকস ব্যবস্থা, বন্দর, রেলপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে জ্বালানি সরবরাহকারী কেন্দ্রগুলো।

এইচইউআরের দাবি, মস্কো আগামী শরৎ ও শীতকালীন অভিযানের জন্য এখন থেকেই বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করার চেষ্টা করছে।

এর অর্থ হলো, রাশিয়া যদি কোনো একটি হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের সংখ্যা কমিয়েও দেয়, তবু দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ও ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা, সামনে দেশটির জন্য রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চাপ আরও বাড়তে পারে।


রিপোর্টর্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪