| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন বাবুল মিয়া

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২১, ২০২৬ ইং | ১১:১৩:৩৭:পূর্বাহ্ন  |  ৮৭১৩৬ বার পঠিত
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন বাবুল মিয়া

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ও চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোর্ট ইন্সপেক্টর পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

পুলিশ জানায়, চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানান। পরে আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম (১৫)-এর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। পরদিন ঘটনাস্থলের পাশের একটি স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরাও উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত পরিবারের গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের সঙ্গে বাবুল মিয়ার গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সকাল ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে বাবুল ওই বাসায় প্রবেশ করেন। তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে নিয়ে দরজা ভেতর থেকে আটকে দেন।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে বাবুল ও তাহমিনার মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। তখন বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। এ সময় গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম সেখানে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।

চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তার সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। পরে আব্দুস সাত্তারকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল মিয়া বাসার বারান্দা দিয়ে লাফিয়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের ভাষ্য।

তবে মামলার এজাহারে বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি। নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা গত ১৪ আগস্ট রাতে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই এজাহারে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে সেলিনা সুলতানা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তখন মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ডের পর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

চাঞ্চল্যকর এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় বাবুল মিয়ার দেওয়া জবানবন্দি, এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগ এবং পুলিশের তদন্ত—সব মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪