| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নেপালের ট্র্যাজেডির পরেই নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্র: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও অর্থায়নে জোর ব্রিকসের

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ইং | ১৬:৪৫:০৫:অপরাহ্ন  |  ১২২৭৫ বার পঠিত
নেপালের ট্র্যাজেডির পরেই নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্র: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও অর্থায়নে জোর ব্রিকসের

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : নেপালে হিমবাহ গলনে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানির ঠিক দুই সপ্তাহ পর, নয়া দিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে পেশ করা 'নয়া দিল্লি ঘোষণাপত্রে' জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপে বিনিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।  ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে সংস্থাটির বর্ধিত ১১টি সদস্য দেশ এবং ১০টি অংশীদার দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এবারের শীর্ষ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো—“সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব প্রতিষ্ঠা”।

ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো। বিশেষ করে অভিযোজনের ক্ষেত্রে বিপুল আর্থিক ঘাটতির কারণে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর দেশগুলো প্রতিনিয়ত বাড়তি ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে । এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিকাঠামো রক্ষা এবং মানবজীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় ব্রিকস জোটের সদস্য ও সহযোগী দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে প্রথাগত স্থানীয় ও দেশীয় জ্ঞান ভাগাভাগি করার পাশাপাশি পরিকাঠামো গঠনের জন্য উপযুক্ত সরকারি ও বেসরকারি তহবিল সংগ্রহের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যু তুলে ধরে ঘোষণাপত্রে একতরফা অর্থনৈতিক বা গৌণ নিষেধাজ্ঞা আরোপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী ও 'জোর খাটিয়ে চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা মানুষের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো মৌলিক অধিকারে আঘাত হানার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে চরম বিপদে ফেলে এবং পরিবেশগত সংকট আরও গভীর করে তোলে। তাই এ ধরনের বেআইনি পদক্ষেপ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (CBAM)-এর বিরোধিতা করে ব্রিকস দেশগুলো জানিয়েছে যে, এটি শাস্তিমূলক, বৈষম্যমূলক এবং সংরক্ষণবাদী নীতি। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে।

ঘোষণাপত্রে পৃথিবীর সর্বপ্রকার বনভূমির ভূমিকা ও পরিবেশগত অর্থনৈতিক অবদানের কথা স্বীকার করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের নীতি নির্ধারণে 'সাধারণ কিন্তু ভিন্ন মাত্রার দায়িত্ব' (CBDR) নীতির পুনরুল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিকস এবং এর অংশীদার দেশগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এক ধাক্কায় জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ করা সম্ভব নয় এবং বিশ্বব্যাপী শক্তির চাহিদা মেটাতে এটি আরও কিছুদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে লক্ষ্য অর্জন করতে একটি ন্যায়সঙ্গত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে জলবায়ু কর্মী ও সতত সম্পদা ক্লাইমেট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হারজিৎ সিং এই দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, জলবায়ু সংকটের প্রধান মূল কারণ হলো জীবাশ্ম জ্বালানি। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ না করে শুধু শক্তি রূপান্তরের কথা বলা এই সংকট সমাধানের জন্য অপর্যাপ্ত। উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায় বেশি হলেও বড় অর্থনৈতিক দেশগুলোকে অবশ্যই কয়লা, তেল এবং গ্যাসের ব্যবহার থেকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় এর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া ক্রমাগত বাড়তেই থাকবে এবং তার চূড়ান্ত মূল্য চুকাতে হবে সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর মানুষকেই।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪