| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পাকিস্তান

হাসপাতালই ‘মরণ ফাঁদ’, আগুনে ১৪ নবজাতকের মৃত্যুতে মিললো ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ইং | ২০:২১:৪৭:অপরাহ্ন  |  ১০২৮ বার পঠিত
হাসপাতালই ‘মরণ ফাঁদ’, আগুনে ১৪ নবজাতকের মৃত্যুতে মিললো ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারি তদন্তে চরম অব্যবস্থাপনা ও অগ্নিনিরাপত্তার গুরুতর ঘাটতির তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত কমিটি ঘটনাটিকে ‘পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

গত ২৬ আগস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে আগুন লাগে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতালটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক ত্রুটি চিহ্নিত করেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, নবজাতক ইউনিটে কার্যকর ধোঁয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ফায়ার অ্যালার্ম কিংবা স্প্রিংকলার ছিল না। আগুন লাগার পর নবজাতকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য কর্মীদের কোনো প্রশিক্ষণ বা মহড়াও ছিল না। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে অক্সিজেন সরবরাহ কীভাবে বন্ধ করতে হয়, সে বিষয়েও কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন ভোর ৬টা ৩৮ মিনিটে প্রথম আগুনের বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয় ৬টা ৫৪ মিনিটে এবং উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান সকাল ৭টা ১ মিনিটে।

এসি'র বৈদ্যুতিক তার থেকেই আগুনের সূত্রপাত

তদন্তে বলা হয়েছে, নবজাতক ইউনিটের একটি এয়ার কন্ডিশনারের অতিরিক্ত উত্তপ্ত বৈদ্যুতিক তার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। পরে প্লাস্টিক, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জমে থাকা আবর্জনায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

অক্সিজেন আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, আগুন ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে অক্সিজেনকে দায়ী করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারকর্মীদের একজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, হাসপাতালের কয়েকটি জরুরি বহির্গমন পথ তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে তাদের জানালা ভেঙে প্রবেশ করতে হয়। আগুনে গলে যাওয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম নবজাতকদের ওপর পড়ে যাওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এর আগেও অগ্নিঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকি ঘটনার এক মাস আগে হাসপাতালের নার্সিং হোস্টেলেও আগুন লাগে। এরপরও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে উন্নত করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ঘটনার পর তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪