| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নতুন ফলে স্বপ্ন বুনছেন মেহেরপুরের মিঠু, গাছে গাছে দুলছে আনারকলি

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ইং | ২০:৪৯:০৫:অপরাহ্ন  |  ৭২১ বার পঠিত
নতুন ফলে স্বপ্ন বুনছেন মেহেরপুরের মিঠু, গাছে গাছে দুলছে আনারকলি

মেহেরপুর প্রতিনিধি: বছর জুড়ে সবজি চাষে খ্যাতি রয়েছে সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরের। সারা বছরেই নানা ধরনের সবজি চাষ হয় এই জেলায় তবে এবার প্রথমবারের মতো মেহেরপুরে যুক্ত হলো নতুন এক বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুট, যা স্থানীয়ভাবে ‘আনারকলি’ নামে পরিচিত। জেলায় এবারই প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এই পুষ্টিকর ফলের চাষ শুরু হয়েছে। নতুন বিদেশী ফলে আনারকলি চাষে লাখ টাকা আয়ের সম্ভবনা দেখছেন সদর উপজেলার যুবক মিঠু। ইউটিউব দেখে এই চাষে আগ্রহী হন তিনি। প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এই পুষ্টিকর ফলের চাষ শুরু হওয়ায় জেলায় কৃষি অর্থনীতিতে যুক্ত হলো নতুন এক সম্ভাবনা।  

মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর গ্রামের মিঠু পারিবারিকভাবে কৃষির সাথে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরেই কলাসহ নানা ধরনের সবজির ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রায় এক বছর আগে ইউটিউবে প্যাশন ফ্রুট চাষের একটি ভিডিও দেখে তিনি দারুণ অনুপ্রাণিত হন। দেরি না করে ঝিনাইদহ থেকে ভালো জাতের চারা সংগ্রহ করেন এবং অন্যের জমি লিজ নিয়ে ২৩০টি চারা জমিতে রোপণ করেন। কৃষক মিঠু তাঁর দেড় বিঘা জমিতে সফলভাবে গড়ে তুলেছেন আনারকলির বাগান। চারা রোপণের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় বাগানে ফুল ও ফল আসা শুরু হয়। 

সরেজমিন মিঠুর আনারকলি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লতানো গাছের গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে আকর্ষণীয় ফুল আর কাঁচা-পাকা আনারকলি। পুরো বাগানটিতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক সার বা কীটনাশক প্রয়োগ না করে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে পরিচর্যা করেছেন তিনি। জমির লীজ খরচসহ এ পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে এই ফলের যে চাহিদা ও ভালো দাম রয়েছে, তাতে এই মৌসুম শেষে প্রায় ৮-১০ লাখ টাকার আনারকলি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা মিঠুর।

ইতোমধ্যেই প্রতিটি গাছের ডালজুড়ে ফল পাকতে শুরু করেছে। ১০-১৫ দিনের মধ্যেই ফল বিক্রি শুরু হবে। উৎপাদন খরচ কম হওয়া এবং গাছে রোগবালাইয়ের ঝামেলা তুলনামূলক অনেক কম থাকায় স্থানীয় অন্যান্য কৃষকদের মাঝেও এই নতুন ফল চাষ নিয়ে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় চাষী আল আমিন, ফরজ ও ইয়াস আলী বলেন, মেহেরপুরের মাঠে এই আবাদ আমরা কখনও দেখিনি। আমরা ধান, কলাসহ অন্যন্য সবজি চাষ করি। অনেক সময় লাভবান হতে পারিনি। আমাদের এলাকার মিঠুর এই আনারকলি দেখে প্রথমদিকে তেমন কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। কিন্তু বর্তমানে যে পরিমান ফুল ও ফল এসেছে তাতে বাগানটা দেখতেই ভালো লাগছে। উৎপাদন খরচ কম এবং গাছে রোগবালাই তুলনামূলক অনেক কম এবং এটি যদি সঠিকভাবে বাজারজাত করা যায় তাহলে লাভবান হওয়া যাবে বলে আমরা মনে করছি।  

আনারকলি চাষী মিঠু বলেন, আমি ছোট থেকেই কৃষি কাজের সাথে জড়িত এবং বিভিন্ন সবজির ব্যবসা করি। ইউটিউবে বিভিন্ন ফল ও ফসলের ভিডিও দেখতে দেখতে হঠাৎ আনারকলি ফল দেখি। নতুন ফল হিসেবে এটি লাগানোর সিদ্ধান্ত নিই। পরে ঝিনাইদহ থেকে গাছ সংগ্রহ করি। তবে প্রথমদিকে যখন গাছ লাগাই তখন অনেকেই হাসাহসি করেছে, অনেকে অনেক কথায় বলেছে। কিন্তু গাছে ফুল ও ফল আসার পর তাদের সেই ভুল ভেঙ্গেছে। এখন প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে আমার বাগান পরিদর্শনে আসে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক পর্যবেক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা পেলে মেহেরপুরের উর্বর মাটিতে এই আনারকলি চাষ ভবিষ্যতে স্থানীয় অর্থনীতিতে এক বিশাল বিপ্লব ঘটাতে পারে।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ কাজী শাহন্ওেয়াজ বলেন, আমরা আশা করছি মেহেরপুরে এই কৃষির যতটা সম্ভব তাদের সফল হওয়ার জন্য যা যা করার দরকার আমাদের কৃষি বিভাগ যথাযথ সহায়তা করবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪