| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ইং | ১৪:০৩:৫৫:অপরাহ্ন  |  ২০৬ বার পঠিত
গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই তা শনাক্ত করে প্রতিরোধে জোর দিচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এ লক্ষ্যে সাইবার মনিটরিং টিমকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি গুজব শনাক্ত, তথ্য যাচাই এবং দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচারের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুরোনো ছবি-ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কেউ যাতে জনমনে বিভ্রান্তি বা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়’ শীর্ষক এক অনলাইন সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সভাপতিত্বে জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তা, অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশ নেন।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো তথ্যকে সরাসরি সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে তা যাচাই-বাছাই এবং গুজবের উৎস শনাক্ত করার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কোনো ছবি, ভিডিও বা পোস্ট ভাইরাল হলে সেটির উৎস, প্রকাশের সময় এবং প্রকৃত প্রেক্ষাপট যাচাই করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি পুরোনো কোনো ঘটনা বা অন্য দেশের, জেলা কিংবা এলাকার ছবি-ভিডিও নতুন কোনো ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এ ধরনের কনটেন্টের সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রচার না করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন কনটেন্টের ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এমন কোনো ছবি, ভিডিও, পোস্ট বা মন্তব্য নজরে এলে, যা ধর্মীয় উসকানি কিংবা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি করতে পারে, সেগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাই করতে বলা হয়েছে।

সভায় পুলিশ সুপার গুজব প্রতিরোধে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশনা দেন। প্রথমে সন্দেহজনক তথ্য শনাক্ত করা, এরপর তথ্যের সত্যতা যাচাই, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোনো কনটেন্ট নজরে এলে তার লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজ, পোস্টের সময়সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে এসব তথ্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হবে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু গুজব শনাক্ত করে তা সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে গুজবের বিপরীতে দ্রুত সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি। কোনো ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট থানা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করে সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী তথ্য প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এজন্য থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও কার্যকর সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো পোস্ট বা কনটেন্টে অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও সভায় জানানো হয়েছে।

সভা থেকে সাধারণ জনগণের প্রতিও যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেয়ে আগেই তা শনাক্ত করে প্রতিরোধ করা এবং একই সঙ্গে দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সাইবার মনিটরিং কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪