| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ দিনে ৬ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ইং | ১৭:২০:০২:অপরাহ্ন  |  ৩২৬ বার পঠিত
ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ দিনে ৬ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে গত চার দিনে পৃথক ঘটনায় ছয়জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ঝুলন্ত অবস্থায়। অন্য দুজনের একজন সাপের কামড়ে এবং অপরজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। জেলার পাঁচটি থানার অপমৃত্যুর মামলা ও পরিবারের দেওয়া তথ্য থেকে এসব মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, ভূল্লী, রাণীশংকৈল ও রুহিয়া থানায় ঘটনাগুলো ঘটে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চারজন আত্মহত্যা করেছেন। তবে এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল (দোগাছি) গ্রামে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে তাশফিয়া আক্তার শেফা (১৬) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে আগের রাতে মায়ের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়। পরদিন সকালে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের ধারণা, মায়ের ওপর অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

এর পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের সেনুয়া গ্রামে সুমাইয়া আক্তার (১৮) নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়। প্রায় তিন মাস আগে বিয়ে হওয়া সুমাইয়া ওই সময় বাবার বাড়িতে ছিলেন। সেদিন বিকেলে তাঁর স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। দুপুরের পর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

একই দিন ভূল্লী উপজেলার জালালী গ্রামে ফারজানা ফেরদৌস রিমি (২৪) নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়। তিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজে অনার্স শেষ করে প্রায় তিন মাস ধরে বাড়িতে ছিলেন। তাঁর বাবা ফজলুল করিমের ভাষ্য, সেদিন দুপুরে মেয়েকে মন খারাপ অবস্থায় দেখে তিনি কারণ জানতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি ও তাঁর স্ত্রী বাড়ির বাইরে গেলে বিকেলে প্রাইভেট পড়তে আসা এক শিক্ষার্থী ফারজানাকে ঘরের বাঁশের সরের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদে ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে মুন্না (২৫) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাবা দুলাল হোসেন পুলিশকে জানান, মুন্না ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি বাবার চায়ের দোকানেই রাতে থাকতেন। ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে তাঁকে দোকানে রেখে বাবা বাড়িতে যান। পরদিন ভোরে মুন্নার মা দোকানে গিয়ে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে চাটাইয়ের ঝাপ তুলে তাঁকে বাঁশের সরের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

এদিকে রুহিয়া উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের উত্তর বটিনা গ্রামে ২০ সেপ্টেম্বর সাপের কামড়ে নারায়ণ রায় (২৪) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য, ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে খাবার খেয়ে নিজের শয়নকক্ষে যাওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর চিৎকার শুনে স্বজনেরা ছুটে যান। তাঁকে সাপে কামড়েছে বুঝতে পেরে প্রথমে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে রাণীশংকৈলের নন্দুয়ার ইউনিয়নের বলিদ্বারা বগুড়াপাড়া গ্রামে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে চার্জার ভ্যানের ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শফিক ইসলাম (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি বলিদ্বারা বাজারে চার্জার ভ্যানে করে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান থেকে বাড়ি ফিরে বারান্দায় ভ্যানটি চার্জে দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে স্বজনেরা তাঁকে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করা হয়েছে।

ছয়টি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর এসব মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

রিপোটার্স২৪/আরাফাত


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪