| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

টাঙ্গাইলে নির্মানাধীন সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই, তদন্তে দুদক

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ইং | ১৯:০৯:৫৩:অপরাহ্ন  |  ১৭৯ বার পঠিত
টাঙ্গাইলে নির্মানাধীন সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই, তদন্তে  দুদক

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি টাকার নির্মাণাধীন  সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের বিষয়ে খতিয়ে দেখতে এবার অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদক টাঙ্গাইলের জেলা কার্যালয়ের অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক বিপ্লব হোসেন। এ সময় দুদুকের জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী মো. বাসেদ আলীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় দুদক টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন জানান, ‘দুদকের পক্ষ থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেতু নির্মাণে দুর্নীতির কিছুটা প্রমাণ পরিলক্ষিত হয়। ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে দেখা যায় নির্ধারিত রডের চেয়ে কম রড ব্যবহার করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে তারা রিপোর্ট তৈরি করেছেন।তবে সেটা তাদের এক্সপার্টরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কে বিস্তারিত জানানো হবে।পরে কমিশনের নির্দেশনানুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বাঁশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো তারা সরেজমিনে দেখতে পায়নি। তবে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে তারা বাঁশ  ব্যবহারের চিত্র দেখতে পেয়েছেন। তবে সাটারিং-এ বাঁশের ব্যবহার দেখতে পেয়েছেন ।

এদিকে, এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসাইল থানার মামলার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত  ঠিকাদার রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে।

একই ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি)  উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর আলম ও অপর আসামি সাব-ঠিকাদার শাহ আলম।

এছাড়াও সেতুটি পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক।

ঘটনার তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।

জানা গেছে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর (বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়ক) ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছিল। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তারা মোবাইল ফোনে কাজটির ভিডিও ধারণ করে। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার রাতে কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয়। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

এলজিইডির অফিস আদেশে বলা হয়, নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর এবং সহকারী ঠিকাদার শাহ আলম তাদের অনুপস্থিতিতে রাতে কাউকে না জানিয়ে ওয়াকওয়ে ও ফুটপাতের ঢালাইয়ের কাজ করেন। বিষয়টি ত্রুটিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। ঢাকা অঞ্চল ও টাঙ্গাইল এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ল্যাব টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিপোটার্স২৪/আরাফাত

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪