চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের আল-আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি বাতিলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনাকারী সংগঠন আল-আমিন সোসাইটি। সোসাইটির অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত করতে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সোসাইটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-আমিন একাডেমি দীর্ঘ ৪৮ বছরে চাঁদপুরের একটি পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। সোসাইটির দাবি, ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৯৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়ে শিক্ষাবোর্ডে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ২২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চম এবং চাঁদপুর জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুর রবের পরিকল্পনায় ১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি আল-আমিন সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছর ২২ জানুয়ারি চাঁদপুরের নতুন বাজার এলাকার আহমদীয়া মাদরাসায় ১৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চারটি শ্রেণিতে আল-আমিন একাডেমির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে দান ও সংগৃহীত অর্থের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয় এবং ১৯৮১ সালে বর্তমান কাজী নজরুল ইসলাম রোডের ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি জুনিয়র হাইস্কুল এবং ১৯৮৬ সালে উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। ২০০২ সালে একাদশ শ্রেণি চালুর অনুমতি এবং ২০০৬ সালে ছাত্রী শাখাকে পৃথক ব্রাঞ্চ স্কুল হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে অভিভাবকদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গুণরাজদী ও বাবুরহাটে আরও দুটি ব্রাঞ্চ চালু করা হয়েছে। এগুলোর অনুমোদনের জন্য চলতি বছরের ২২ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে সোসাইটি জানিয়েছে।
সোসাইটির দাবি, ১৯৮৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তাদের গঠিত ১৭টি ধারাবাহিক ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদন দিয়েছে। তবে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সোসাইটির গঠিত বর্তমান গভর্নিং বডি বাতিল করা হয়।
সোসাইটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, ২০১৯ সালে গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হলে ওই সিদ্ধান্তের চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত হয়। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও একটি রিট করা হয়। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সোসাইটির গঠিত গভর্নিং বডি অনুমোদন করে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সোসাইটির অভিযোগ, তাদের বক্তব্য ও লিখিত মতামত গ্রহণ না করেই শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে এবং আগের অভিযোগের রেফারেন্সে বর্তমান গভর্নিং বডি বাতিল করেন। তারা এ সিদ্ধান্তকে বিধিবহির্ভূত দাবি করে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আল-আমিন সোসাইটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় ‘অযাচিত সরকারি হস্তক্ষেপ’ বন্ধের দাবি জানায়। একই সঙ্গে সোসাইটির গঠিত গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আল-আমিন সোসাইটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, শিক্ষানুরাগী জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান খান, আব্দুস শুক্কুর মস্তান, সোসাইটির সাবেক সদস্য মুজিবুর রহমান আনসারী, আবু আবদুল্লাহ মো. হাসান ও মাওলানা আফসার উদ্দিন মিয়াজী।
চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এমএ লতিফ সহ স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক এবং জাতীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ