| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেরপুরে গোপালপুর বিটে বনভূমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ইং | ১৮:৩৮:০৪:অপরাহ্ন  |  ৫৬ বার পঠিত
শেরপুরে গোপালপুর বিটে বনভূমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে সংরক্ষিত বনভূমি দখল, নির্বিচারে গাছ কাটা ও সামাজিক বনায়নের অংশীদারদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের গোপালপুর বিটের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। পরে দিনের বেলায় বিভিন্ন স্থানে এসব কাঠ পাচার করা হচ্ছে। এ কাজে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের সংরক্ষিত জমি অর্থের বিনিময়ে দখল দেওয়ার সঙ্গে গোপালপুর বিট কর্মকর্তা আব্দুল বারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর যোগসাজশেই বনভূমি দখল ও গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি তাঁদের। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিট কর্মকর্তা।

ময়মনসিংহ সদর রেঞ্জের গোপালপুর বিটের আওতায় প্রায় ২ হাজার ৩ দশমিক ৭৯ একর বনভূমি রয়েছে। নালিতাবাড়ীর কালাকুমা, জঙ্গলিয়াপাড়া, বিশগিরিপাড়া ও আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় একসময় ছিল ঘন বন। পাখির কলকাকলিতে মুখর এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল ও গাছ কাটার কারণে অনেক স্থান এখন উজাড় হয়ে গেছে। কোথাও পড়ে আছে কাটা গাছের গুঁড়ি, আবার কোথাও বনভূমিতে গড়ে উঠেছে বসতি কিংবা কৃষিজমি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশগিরিপাড়া মসজিদের পুকুরসংলগ্ন প্রায় ১৫ শতাংশ বনভূমিতে আকাশমনি গাছের বাগান ছিল। ওই জমি অর্থের বিনিময়ে রফিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দখল করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিট কর্মকর্তা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। বর্তমানে সেখানে আমন ধান চাষ করা হচ্ছে।

বিশগিরিপাড়ার বাসিন্দা সমির চিসিম (৭৫) বলেন, ‘আগে এই বনে প্রচুর আকাশমনি গাছ ছিল। কয়েক মাস ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীও এর সঙ্গে জড়িত বলে আমরা মনে করি।’

একই বিটের কালাকুমা বাওইবাধা এলাকায় বন বিভাগের প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে আকাশমনি গাছের বাগান ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফজর আলী নামে এক ব্যক্তি জায়গাটি ঘেরাও করে দখলে নেওয়ার পর সেখানকার গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে ওই জমিতে মেহগনির চারা লাগানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিট কর্মকর্তা আব্দুল বারীর যোগসাজশেই জমিটি দখল ও গাছ কাটা হয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আব্দুল বারী দায়িত্ব নেওয়ার পর এলাকায় গাছ কাটার প্রবণতা বেড়েছে। রাতের আঁধারে বিভিন্ন স্থান থেকে গাছ কাটা হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী দাবি করেন, বন কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করেই সুযোগ বুঝে গাছ কাটা হয়।

সরেজমিনে বন বিভাগের কয়েকটি বাগানে কাটা গাছের গুঁড়ি ও শিকড় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি বড় গাছের বাজারমূল্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বা তারও বেশি। সে হিসাবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক লাখ টাকার গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

এদিকে পানিহাটা এলাকায় সামাজিক বনায়নের দুটি বাগানের অংশীদারদের চেক দেওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বিট কর্মকর্তা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ‘৯১ বাগান’-এর ১০০ অংশীদারের কাছ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা এবং ‘৯০ বাগান’-এর ৬৬ অংশীদারের কাছ থেকে দুই দফায় ২ হাজার ও ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অংশীদারদের দাবি, চেক দেওয়ার আশ্বাসে তাঁরা এসব টাকা দিয়েছেন। তবে টাকা দেওয়ার পরও তাঁরা চেক পাননি।

‘৯১ বাগান’-এর অংশীদার যোসেফ বলেন, ‘চেক দেওয়ার কথা বলে বিট অফিস থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা দেওয়ার পরও এখনো চেক পাইনি।’

‘৯০ বাগান’-এর অংশীদার বিজার কুবি বলেন, ‘বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ে আমাদের জানানো হয়, টাকা দিলে চেক পাওয়া যাবে। আমরা সরল বিশ্বাসে টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখনো চেক পাইনি।’

অংশীদারদের ভাষ্য, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বনায়নের গাছ রোপণ ও পরিচর্যার সঙ্গে যুক্ত। গাছ বিক্রির পর চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য অর্থের চেক পাওয়ার কথা। তবে চেক পেতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গোপালপুর বিট কার্যালয়ে গেলে বিট কর্মকর্তা আব্দুল বারী অংশীদারদের কাছ থেকে চেক দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এসব গাছ চুরির খবর আমরা পেয়েছি। নিয়মিত মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মেজবাউল হকের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়রা গারো পাহাড়ের অবশিষ্ট বন রক্ষায় দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ, গাছ কাটা বন্ধ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বনভূমি রক্ষায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি তাঁদের।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪