| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জিপিএ-৫ অর্ধেকের বেশি কম, কারণ জানালেন ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ইং | ১৫:৪৩:২৪:অপরাহ্ন  |  ২১০০ বার পঠিত
জিপিএ-৫ অর্ধেকের বেশি কম, কারণ জানালেন ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৭ দশমিক ৮১ শতাংশ। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২ হাজার ৩৭৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪১৬ জন। পাসের হারও গত বছরের ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪ দশমিক ১৫ শতাংশে।

ফলাফলের এই অবনতির পেছনে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিতি, পড়াশোনায় আগ্রহের ঘাটতি, বিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীর দুর্বলতা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর মোট ২ হাজার ৩৯৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন অনুপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষায় অংশ নেন ২ হাজার ৩৭৭ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ২ হাজার ২৩৮ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৩৯ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১৬ জন, যা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২ হাজার ৫১৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন ২ হাজার ৪৩৪ জন। পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছিলেন ৮০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯৮৬ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ পয়েন্ট এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৭০ জন বা প্রায় ৫৭ দশমিক ৮১ শতাংশ। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৭৩৭ জন শিক্ষার্থী।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল-কলেজে আসার আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তাদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার ফলাফলে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের সরাসরি পাঠদান, পারস্পরিক আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের যে গুরুত্ব রয়েছে, বাসায় বসে পড়াশোনার মাধ্যমে তার সম্পূর্ণ বিকল্প তৈরি করা সম্ভব নয়।’

শিক্ষার্থীদের আবার শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি উল্লেখ করে অধ্যক্ষ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজেদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোথাও আস্থার ঘাটতি, আবার কোথাও শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিবেশের প্রভাব রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।’

প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার দায় এড়িয়ে যেতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অন্যের ওপর দায় চাপাতে চাই না। বরং নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে এই পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমাদের যেসব দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে উন্নয়নের চেষ্টা করতে হবে।’

ফলাফলে প্রভাব ফেলা আরেকটি বিষয় হিসেবে নিজেদের শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার নীতির কথা উল্লেখ করেন মাজেদা বেগম। তার ভাষ্য, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জিপিএ পাওয়ার শর্ত থাকলেও ভিকারুননিসায় নিজেদের স্কুল থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে তুলনামূলক নমনীয়তা রাখা হয়।

তিনি বলেন, জিপিএ ৩ দশমিক ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও কলেজে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। জিপিএ ৪ দশমিক ৫ না পেলে ভর্তি হতে পারবেন না, এমন কোনো শর্ত আরোপ করা হয় না।

অধ্যক্ষের মতে, নিজেদের শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার এই নীতির কারণে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরাও কলেজে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীর ফলাফল প্রত্যাশিত পর্যায়ে নিয়ে আসা কঠিন হচ্ছে। এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি অংশের দুর্বলতা সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

তবে ফলাফল ভালো করার জন্য দুর্বল শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে বাধ্য করতে চান না তারা। নিজেদের শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার নীতিতে অটল থেকেই শিক্ষার মান ও ফলাফলের উন্নয়নে কাজ করতে চান বলে জানান অধ্যক্ষ।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪