📍 রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক
লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৬২ জন বাংলাদেশি নাগরিক বুধবার (৯ জুলাই) সকালে দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে ঝিনাইদহের মতিউর রহমান সাগর ও কুষ্টিয়ার তানজির শেখ ছিলেন মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি হয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার। সকাল সাড়ে ৭টায় বুরাক এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাঁরা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
দালালের ফাঁদে পড়ে মাফিয়া গ্যাংয়ের হাতে বিক্রি
২০২৩ সালে স্থানীয় দালালের প্রলোভনে পড়ে সাগর ও তানজির প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে লিবিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। ভালো চাকরির আশ্বাসে যাত্রা করলেও বাস্তবে তাঁরা পড়েন ভয়াবহ ফাঁদে।
লিবিয়ায় পৌঁছে তাদের ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে এক চক্র মাফিয়া গ্যাংয়ের হাতে বিক্রি করে দেয়। অন্ধকার একটি ঘরে আরও ৮০ জন বাংলাদেশির সঙ্গে তাঁদের বন্দি করে রেখে চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
নির্যাতনে অচেতন, ফেলে রেখে পালায় চক্র
তীব্র মারধর, লোহার রড ও বৈদ্যুতিক শকে সাগর ও তানজির মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে পাচারকারীরা ধরে নেয় তারা মারা যাবে। এরপর তাদের ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
কোনোভাবে তাঁরা লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে আত্মীয়ের বাড়িতে পৌঁছান। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁদের মুক্তির প্রক্রিয়া।
বাঁচার গল্প, ফিরে আসার লড়াই
পরিবারের অনুরোধে ব্র্যাক বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে তোলে। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ট্রাফিকিং ইন পারসনস (TIP) অফিস, ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (IJM) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সমন্বয়ে তাঁদের উদ্ধার করে একটি নিরাপদ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের দেশে ফেরানো হয়।
ব্র্যাক: ‘এটা শুধু ফিরে আসা নয়, বেঁচে যাওয়ার গল্প’
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক আল-আমিন নয়ন বলেন, “সাগর, তানজির ও আলমগীরসহ ১৬২ জনকে আমরা ফিরিয়ে এনেছি মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে। এটি শুধু একটি প্রত্যাবাসন নয়, এটি একটি বেঁচে থাকার এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসিক গল্প।”
📎 রিপোর্টার্স২৪/এস