ভাঙ্গা প্রতিনিধি: ট্রেন যাত্রায় ভ্রমণে জানালার পাশে বসে ভ্রমণ অনাবিল আনন্দ ও শান্তির প্রিয়তা বলেই সাধারণত টিকিট কাঁটার আগ্রহীর সংখ্যাটা একটু বেশী। এটি একটি চিরাচরিত বিষয় হলেও ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থেকে ভাঙ্গা ফরিদপুর ট্রেন যাত্রীদের নিবিঘ্নে ও নিরাপদে গন্তব্যেস্থলে পৌঁছানোর বিশেষ এক আতঙ্কের নাম হচ্ছে চলন্ত ট্রেন চলাচলের পথে গায়েবী পাথর নিক্ষেপ।
রাতের আঁধারে কে বা কারা পাথর নিক্ষেপ করছে আজও সঠিক তথ্য নিশ্চিত হয়ে ওঠেনি পুলিশ ও রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধীনস্থ কর্তা ব্যক্তিদের কাছে। জানালার পাশে বসা ট্রেনের যাত্রীদের টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ থেমে নেই। চলন্ত ট্রেন যাত্রীদের লক্ষ্য করে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পাথর নিক্ষেপকারীদের ঔদ্ধত্যপণা।
গত দুই বছর ধরে ভাঙ্গায় ট্রেন লাইনের ফের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্বিতীয় দফায় চালু করা হয়। ট্রেন চলাচলের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গায়েবী পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনায় শতাধিক নারী শিশু ও পুরুষ আহত হয়েছেন। আহত যাত্রীদের মধ্যে বেশীর ভাগ যাত্রীরা দূরের হওয়ায় কখনও নিকটস্থ থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে খুব একটা দেখা যায়নি।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ট্রেনের ভিতরে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করলেও যাত্রীরা গায়েবি পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এরবেশী এগুতে দেখা যায়নি। তবে দিনের আলোয়ে রেলওয়ের নিরাপদ যাত্রা হলেও রাতের আঁধারের গায়েবী পাথর নিক্ষেপকারীদের সনাক্তকরণ করা না গেলে দুষ্কৃতকারীরা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠবে অভিমত ট্রেন যাত্রীদের।
তাদের তথ্য মতে, ভাঙ্গা ফরিদপুর ট্রেন রুটে অহরহ পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী নগরকান্দার তালমা ট্রেন ষ্টেশন দুটি পাথর নিক্ষেপের হটস্পটে দৃশ্যমান হলেও পূর্ব সচেতনায় ট্রেন চলাচলের সময় যাত্রীরা জানালা বন্ধ করে দিলেও নির্দিষ্ট দুটো স্টেশনের কাছাকাছি ট্রেন পৌঁছাতেই গায়েবী পাথর নিক্ষেপকারীরা পাথর নিক্ষেপ করে থাকে। টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ ঘটনায় পুখুরিয়া ও তালমা দুটি ষ্টেশন দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। সাধারণ যাত্রীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বিগ্নতা।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে এঅঞ্চলের ট্রেন যাত্রীরা চলাচল করলেও রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট থানা বা পুলিশ না থাকায় দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনা আরও ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আশির দশকে পুখুরিয়া টু ফরিদপুরের ট্রেন লাইন চালু থাকাকালীন সময়েও দুষ্কৃতকারীরা ট্রেনের যাত্রীদের টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ ঘটনা দেখা গেছে। কিন্তু তখন এতটা দেখা যায়নি পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনা।
গত দুইবছর আগে ফরিদপুর টু ভাঙ্গা ট্রেনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ফেরচালু হলেও একই ধারায় অরক্ষিত নিরাপত্তায় যাত্রীরা পাথর নিক্ষেপকারীদের ভয়ে ভয়ে ট্রেনে চলাচল করছে।
ভাঙ্গা রেলষ্টেশন ও রেলজংশন সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধীনস্থদের তথ্য মতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক আওতাধীন রাজবাড়ী-খুলনা-বেনাপোল ও রাজশাহীগামী নকশি কাঁথা কমিউনিটি, সুন্দরবন, মধুমতী আন্তনগর মেইল ট্রেন ও লোকাল ট্রেনসহ মোট ৬ জোড়া ট্রেন পদ্মাসেতু হয়ে মাওয়া ও ভাঙ্গা খুলনা বেনাপোল রুটে ট্রেন চলাচল করে।
ভাঙ্গা-ফরিদপুর লোকাল ও আন্তসিটি ট্রেন চলাচলের পথে ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া ট্রেন ষ্টেশন ও পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার তালমা ষ্টেশন এলাকাশ ট্রেনের যাত্রীদের টার্গেট করে দিনে ও রাতের আঁধারে দুষ্কৃতকারীরা পাথর নিক্ষেপ করে।
ইকোনমিক জোনে পরিণত করার লক্ষ্য ভাঙ্গা উপজেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সংযোগ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময় পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনায় কমপক্ষে শতাধিক নারী শিশু ও পুরুষ দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপে আহত হন।
বড় ধরনের কোন ঘটনা সৃষ্টি না হলেও রহস্যজনক কারণ পাথর নিক্ষেপের ঘটনা উদঘাটন করা না গেলেও স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধিতে সড়কপথের বিভিন্ন যানবাহনে যাত্রী কম হওয়ার সুবাদে কোন অদৃশ্যের হাত রয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত কমিটি সাপেক্ষ অনেক কিছু বেড়িয়ে আসতে পারে বলে সচেতন ট্রেন যাত্রীদের অভিমত।
সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় পুলিশ পাথর নিক্ষেপকারী কাউকে সনাক্ত করতে পারেনি বিধায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে চলন্ত ট্রেনের যাত্রীদের টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা। এবিষয়ে পুলিশের দাবী বিভিন্ন সময় ট্রেন যাত্রীদের টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ ঘটনা লোকমুখে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেখা গেলেও যাত্রী মহলের কেউ অভিযোগ দিতে দেখা যায়নি।
কারন হিসেবে পুলিশ আরও জানায় যাত্রীরা বেশীর ভাগ দূরের হওয়ায় আইনের ঝামেলা এড়িয়ে চলেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, পদ্মাসেতু হয়ে ভাঙ্গা মাওয়া ফরিদপুর ও রাজবাড়ী খুলনা বেনাপোল এবং রাজশাহী প্রতিদিন শত শত যাত্রী সময় ও অর্থ সাশ্রয় করতে ঘরে নিরাপদে ফেরার লক্ষ্য ট্রেনে ভ্রমণ করায় ট্রেনের যাত্রীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেলেও চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে ট্রেন যাত্রীদের জন্য নিরাপদ যাত্রা আরও ভয়ংকর ও বিপদজনক হয়ে ওঠেছে। মূলত ট্রেনের জানালা খোলা যাত্রী শুধু নয় গায়েবী দুর্বৃত্তরা জানালা টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ ছাড়াও ট্রেনের বগির গেটের মুখে বা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের টার্গেট করেও পাথর নিক্ষেপেও মেতে উঠেছে।
কুবৃত্তধারী চেতনার দুর্বৃত্তকারীরা চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে ভয়ের সৃষ্টি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ায় ভীতিকর পরিস্থিতিতে ট্রেনের যাত্রীরস চলাচল করার পাশাপাশি যাত্রী হ্রাসে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে আসবে।
রেল পুলিশ থানা ষ্টেশন না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় থাকার পরও যাত্রীরা সহসাই তাদের অভিযোগগুলো লোকাল থানায় দিতে সহসাই যেতে দেখা যায় না। অচিরেই রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ষ্টেশন স্থাপনের মধ্য দিয়ে গায়েবী পাথর নিক্ষেপ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে যাত্রীদের ভয় কাটিয়ে ওঠার সুব্যবস্থা করা না হল ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা জ্যামিতিক হারে নয় গানিতিক হারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে বলে অভিমত ট্রেনের যাত্রী মহলের।
ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় সংবাদ কর্মী শাহাদাৎ হোসেন জানান, গত কয়েক দিন আগে ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গায় রাতের বেলায় ট্রেনে তিনি বাড়িতে ফিরতে ছিলেন। হটাৎ করে পাথর নিক্ষেপকারীদের একটা পাথর চলন্ত ট্রেনের জানালা পাশের একজন যাত্রীর শরীরে লাগে। এতে ভীষণ যন্ত্রণায় তিনি কাতরাতে থাকেন। পরে ট্রেনের ভিতরের একজন হকারের কাছে থাকা মলম ব্যবহারে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।
ভাঙ্গা জংশন স্টেশন ম্যানেজার জিল্লুর রহমান জানান, ভাঙ্গা-ফরিদপুর -রাজবাড়ী- খুলনা ও বেনাপোল লাইনে দৈনিক ৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করে।
ফরিদপুর লাইনের কিছু অংশে বিভিন্ন সময় চলন্ত ট্রেনের দিকে পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনার সৃষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে পুখুরিয়া ও তালমা এদুটো ষ্টেশনে ট্রেন চলাচলের পথে পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও বেশ উদ্বিগ্ন।
ভাঙ্গা থানা অফিসার ইন চার্জ (ওসি তদন্ত) ইন্দ্রজিত মল্লিক জানান, রেল সংশ্লিষ্ট যেকোন ঘটনা সাধারণত রেল ষ্টেশন পুলিশ সদস্যরা কাজ করে থাকেন। ভাঙ্গায় জিআরপি পুলিশ ষ্টেশন না থাকলেও প্রায় একটিবছর ভাঙ্গায় অতিবাহিত হতে চললেও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ঘটনা নিয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে তার জানা নেই।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ