ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে ভাড়ায় চালানো অটোরিকশার ব্যাটারি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ১৫ বছরের কিশোর চালক রাকিবকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজের চার দিন পর বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার হরিনারায়নপুর গ্রামে একটি আখক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রাকিব হরিনারায়নপুর সরকারপাড়া এলাকার দিনমজুর রফিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছিলেন রফিকুল। পরিবারের ভরসা ছিল কিশোর রিকশাচালক রাকিবের আয়ের ওপর।
পুলিশ জানায়, গত (১৮ আগস্ট) বিকেল চারটার দিকে রাকিব প্রতিবেশী সুজন আলীর অটোরিকশা নিয়ে ভাড়ায় বের হয়। রাত আটটার মধ্যে ফেরার কথা থাকলেও আর বাড়ি ফেরেনি। খোঁজাখুঁজি ব্যর্থ হলে পরদিন তার বাবা সদর থানায় অপহরণ মামলা করেন।
পরদিন সকালে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোনে জানায়, রাকিবের চালানো অটোরিকশাটি হরিহরপুর মাঠে পড়ে আছে। পরে স্বজনরা সেখানে গিয়ে রিকশাটি উদ্ধার করেন। কাছেই বাঁশঝাড়ে পড়ে থাকা অবস্থায় গাড়ির ব্যাটারিও পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি—মাহাবুব (৩২) ও আব্দুল কুদ্দুস (৩৫)—প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, “গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে হরিনারায়নপুরের একটি আখক্ষেত থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি আংশিক পচে গিয়েছিল এবং পানিতে থাকায় ফুলে উঠেছিল। হত্যাকাণ্ডটি চার দিন আগে সংঘটিত হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য ছিল অটোরিকশার ব্যাটারি ছিনতাই।”
এজাহারে রাকিবের বাবা উল্লেখ করেন, নিখোঁজের আগে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আসামি রাহুল রায় তার ছেলেকে ভগতগাজী এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানেই শেষবার রাকিবকে দেখা গিয়েছিল।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম জানান, রাকিবের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
রিপোর্টার্স ২৪/ প্রীতিলতা