| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত মাগুরার রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ ইং | ১৩:১৭:৫৯:অপরাহ্ন  |  ১৫২৮৩২৬ বার পঠিত
নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত মাগুরার রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল

শ্রীপুর প্রতিনিধি : নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত মাগুরার শ্রীপুরের একমাত্র রেড ক্রিসেন্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি।  ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী রেড ক্রিসেন্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করে।

প্রথম থেকেই স্বাস্থ্যসেবার কোন প্রকার ঘাটতি ছিল না। উপজেলা সদরে স্বাস্থ্যসেবার তেমন কোন সু-ব্যবস্থা না থাকায় এই রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালেই প্রতিদিন দুর থেকে শত শত রোগী আসতো। এখানে অত্যাধুনিক মেশিন ও দক্ষ টেকনিশিয়ান দ্বারা এখানে ৫০% ছাড়ে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, করোনা টেস্ট, ব্লাড গ্রুপ, মল-মুত্র পরীক্ষা, ইসিজি, আল্ট্রাসনো ও ডায়াগনস্টিক করা হতো। 

কিন্তু বেশকিছু ধরে জনবল সংকট আর ল্যাব টেকশিয়ানের অভাবে হাসপাতালটিতে এখন এসব পরীক্ষা- নিরীক্ষা বন্ধ আছে। 

জানা গেছে, হাসপাতালের দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার প্রায় ৫'মাস ধরে বেতন ভাতা পান না। খরচের বিল ভাউচারের বরাদ্ধ বন্ধ রয়েছে। ৯ জন স্টাফের মধ্যে ১'জন নিরাপত্তা প্রহরী ও ১' জন ল্যাব টেকনিয়ানকে এখান থেকে প্রত্যাহার করে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। অন্যদেরকেও বদলীর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

টেকনিশিয়ানের অভাবে হাসপাতাল ল্যাবের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র, যন্ত্রপাতি, এসি ও দামী, দামী ঔষধ নষ্ট হচ্ছে। ল্যাবে কোন পরীক্ষা না হওয়ায় রুগীর উপস্থিতিও কমতে শুরু করেছে। 

জানা গেছে, কোন বিশেষ কারণে হাসপাতালটির কার্যক্রম শ্রীপুর থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি জানার পর এলাকাবাসী হাসপাতালটি স্ব-অবস্থানে বহাল রেখে হাসপাতালটির কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গরুপে আগের মতো পরিচালনার দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবসহ মাগুরা জেলা প্রশাসক এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানসহ উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। 

এলাকাবাসী বলছেন, রেড ক্রিসেন্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি এই এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রত্যন্ত এলাকার গরীব, অসহায়, দুঃস্থ মানুষগুলো স্বল্পমূল্যে সার্বক্ষনিক মেডিকেল অফিসার দ্বারা স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে খুবই উপকার পাচ্ছেন। তাছাড়া কোন প্রকার হয়রানি ছাড়া লোকজন খুবই কম  খরচে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নিরীক্ষাগুলো এখানে করতে পেরে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। যেকারণে, এলাকার মানুষের স্বার্থে হাসপাতালটি এলাকার মানুষের খুবই প্রয়োজন। তাই যে কোন মূল্যে হাসপাতালটি রক্ষা করতেই হবে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ লিংকু কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই এই রেড ক্রিসেন্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি অতি সুনাম ও সুখ্যাতির সাথেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে কয়েকজন স্টাফকে বদলি করাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় হাসপাতালটি চরম সংকটে পড়েছে। ল্যাব টেকনিশিয়ান  না থাকায় আপাতত কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা এখানে হচ্ছে না। পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতি, কেমিক্যাল ও ঔষধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রুগীও কমতে শুরু করেছে। রুগীরাও সঠিক সেবা পেতে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালের বাকি স্টাফগুলোও রয়েছে উদ্বিঘ্নের মধ্যে কখন যেন কার বদলির অর্ডার এসে যায়। একটি সুষ্টু পরিবেশ ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনভাবেই স্বাস্থ্যসেবা  দেওয়া কখনই সম্ভব হচ্ছে না। তবে, উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের সাথে এবিষয়গুলো নিয়ে বারবার কথা বলা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, অতি দ্রুতই এর একটি সুষ্টু সমাধান হয়ে যাবে।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪