| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কালিহাতীতে তাঁতের বুননে টিকে থাকা ঐতিহ্য ও সংগ্রামের গল্প

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ ইং | ১৫:১১:৫৪:অপরাহ্ন  |  ১৫২৯৫৯৩ বার পঠিত
কালিহাতীতে তাঁতের বুননে টিকে থাকা ঐতিহ্য ও সংগ্রামের গল্প
ছবির ক্যাপশন: কালিহাতীতে তাঁতের বুননে টিকে থাকা ঐতিহ্য ও সংগ্রামের গল্প

শুভ্র মজুমদার, কালিহাতী : টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার এক ছোট্ট গ্রাম বল্লা। আকারে ছোট হলেও তাঁতশিল্পের ইতিহাসে এর নাম অমলিন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানকার মানুষের শিরায়-শিরায় বইছে তাঁতের সূক্ষ্ম নকশার রঙিন স্বপ্ন। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবিকার তন্তুগুলো একে অপরের সঙ্গে মিশে গড়ে তুলেছে বল্লার অনন্য পরিচয়।

এই গ্রামের তাঁতের শাড়ি শুধু একটি পোশাক নয়।এ যেন বাঙালির হৃদয়ের বুনন। সুতোয় গাঁথা নকশার ভেতর লুকিয়ে থাকে রুচি, আবেগ ও সৃজনশীলতার অমলিন ছাপ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁতি পরিবারগুলো তাদের হাতের যাদুতে জন্ম দিচ্ছেন বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ি, সূক্ষ্ম জামদানি, আর নানান সুতির কাপড়, যা দেশ-বিদেশে সমাদৃত।

তাঁতশিল্পী আব্দুল খালেক মণ্ডল স্মৃতিচারণা করেন, আমরা প্রায় একশ বছর ধরে এই পেশায় আছি। কিন্তু এখন কাঁচামালের দাম বাড়তি।  পাওয়ার লুমের প্রতিযোগিতা আর মধ্যস্বত্বভোগীদের চাপে বাঁচা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। সরকার ও তাঁত বোর্ড পাশে দাঁড়ালে এই শিল্পকে আরও দূরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

আরেক তাঁত শিল্প কারখানার মালিক আব্দুল মজিদ জানান, আমি ৪৫ বছর যাবৎ এই শিল্পের সাথে জড়িত। একসময় আমাদের ব্যবসা খুব ভালো চলতো। কিন্তু এখন খুব খারাপ অবস্থা। হাটে বাজারে কেউ শাড়ি কাপড় কিনতেই চায়না। কিভাবে এ শিল্পকে ধরে রাখবো। চলাই মুশকিল হয়ে দাড়িয়েছে।

বল্লার তাঁত শুধু শাড়ি বানায় না, এটি হাজারো পরিবারের হাঁসিমুখ, ভরসার ভাতের থালা। কিন্তু কমে আসা চাহিদা, বাজার দখলের প্রতিযোগিতা, আর্থিক অনটন ও দালালের দৌরাত্ম্যে অনেক তাঁতি বাধ্য হচ্ছেন পেশা বদলাতে।

তবুও আশার আলো একেবারে নিভে যায়নি। স্থানীয় কিছু উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নতুন উদ্যোগে তাঁতশিল্পকে ফের জাগিয়ে তুলতে শুরু করেছেন। অনলাইন বিপণন, আধুনিক নকশা এবং সরাসরি ক্রেতার হাতে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন তাঁতিরা। সরকারের সঠিক সহযোগিতা পেলে বল্লার তাঁতশিল্প আবারও সোনালি দিনে ফিরতে পারবে।

তাঁত এখানে কেবল এক পেশা নয় এটি বাংলাদেশের গর্ব, আমাদের জাতীয় পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। তাই প্রয়োজন সবার সম্মিলিত ভালোবাসা, উদ্যোগ ও সহায়তা যাতে আবারও বল্লার প্রতিটি তাঁতির ঘরে আনন্দের আলো জ্বলে ওঠে।

রিপোর্টার্স ২৪/ প্রীতিলতা

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪