আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি:
ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার দুটি সংবাদমাধ্যম এবং বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ১৩৮টি ভিডিও এবং ৮৩টি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এই নির্দেশটি আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হওয়া একটি মানহানির মামলার কারণে দেওয়া হয়েছে। আদানি এন্টারপ্রাইজেস কর্তৃক দায়ের করা এই মামলার প্রেক্ষিতে, গত ৬ সেপ্টেম্বর উত্তর-পশ্চিম দিল্লির জেলা আদালত একটি 'একতরফা' (ex parte) নির্দেশ জারি করে।
আদালতের নির্দেশে, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা, রবি নায়ার, আবীর দাশগুপ্ত, আয়ুষকান্ত দাস এবং আয়ুষ জোশীকে তাদের লেখা প্রবন্ধ ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। যদিও এই নির্দেশে অভিযুক্তরা সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে নোটিশ পাননি।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রকাশনাগুলি আদালতের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই, এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, "আপনারা এই নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন এবং ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা দিন।"
মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনক এবং গুগল ইনক-কেও নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে: দ্য ওয়্যার, নিউজ লন্ড্রি, রবীশ কুমার, অজিত আঞ্জুম, ধ্রুব রাঠী, এবং আকাশ ব্যানার্জী (দেশভক্ত)।
আদালতের এই 'একতরফা' নির্দেশটি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে কারণ এতে মামলার অপর পক্ষ—অর্থাৎ সাংবাদিক এবং সমাজকর্মীদের বক্তব্য শোনা হয়নি।
তবে, বিচারক অনুজ কুমার সিং বলেছেন যে তার এই নির্দেশ 'সঠিক, যাচাইকৃত এবং প্রমাণ-ভিত্তিক' সংবাদ প্রকাশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়। এই সিদ্ধান্তের পর, পরঞ্জয় গুহ ঠাকুরতা বলেছেন যে তিনি আদানির দায়ের করা সাতটি মানহানির মামলার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, তার লেখা সব প্রতিবেদন ও বক্তব্য সত্য এবং জনস্বার্থে প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি ভারতের বিচার ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
এস