রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে লিভারের রোগ, বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার। অ্যালকোহল না খেলেও অসংখ্য মানুষ এ সমস্যায় ভুগছেন। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৩০% মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই হার ৪০%-এরও বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, এর জন্য অনেকটাই দায়ী জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস। ক্রমেই এই অসুখ হয়ে উঠছে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য উদ্বেগ। ফ্যাটি লিভারের কুপ্রভাব প্রথম স্তরে টের পাওয়া যায় না অনেক ক্ষেত্রেই। কিন্তু যখন মানুষ উপসর্গ টের পায়, তখন হয়তো রোগটি অনেকটাই জেঁকে বসেছে।
কিন্তু চিকিৎসা না হলে এটি ধীরে ধীরে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস, সিরোসিস এমনকি লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এখন পর্যন্ত ফ্যাটি লিভারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর ওষুধ নেই। তাই চিকিৎসকরা মূলত ওজন কমানো, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং রক্তে সুগার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ভিটামিন এ সমস্যায় আশার আলো দেখাতে পারে।
অনেকটাই সেরে উঠতে পারবেন রোগী। ফ্যাটি লিভার ঘটায় এমন বিষয়গুলোকে তো নিয়ন্ত্রণ করেই এই ভিটামিন। সেই সঙ্গে ইতিমধ্যে বিগড়ে যাওয়া লিভারকেও অনেকটাই সুস্থ করতে পারে এই ভিটামিন। কিন্তু এই গেম-চেঞ্জার ভিটামিন কোনটি? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা জেনে নিন—
ফ্যাটি লিভারে কোন ভিটামিনগুলো উপকারী
ফ্যাটি লিভার রোগের চিকিৎসায় চিকিৎসকরা ব্লাড সুগার ও লিপিড প্রোফাইল নজরে রাখতে বলতেন। কিন্তু সম্প্রতি গবেষকরা ভিটামিন, বিশেষ করে ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অসাধারণ একটি কার্যকারিতা খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
লিভারের ক্ষতি এবং চর্বি জমা আটকাতে দারুণ কাজ করতে পারে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।
দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা দেখেছেন, ফ্যাটি লিভারের পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটাতে পারে মাইক্রোআরএনএ-৯৩। এমআইআর-৯৩ র মাত্রা বেশি থাকলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যার অবনতি ঘটছে। এরপর গবেষকরা এমআইআর-৯৩ দমন করার উপায় খুঁজতে শুরু করেন। তারা ১৫০টি FDA-অনুমোদিত ওষুধ এবং যৌগ পরীক্ষা করেন। এমআইআর-৯৩ র ক্ষতিকারক প্রভাব কমাতে ভিটামিন বি৩ দারুণ কাজ করছে।
এটিই একমাত্র ভিটামিন-সম্পর্কিত গবেষণায় অগ্রগতি নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন বি১২ এবং ফলিক এসিড লিভারের ক্ষতি ধীর করতে সাহায্য করতে পারে, যার মধ্যে নন-অ্যালকোহলিক স্টিটোহেপাটাইটিস (এনএএসএইচ) অন্তর্ভুক্ত।
রিপোর্টার্স ২৪/ আয়েশা