| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে দুইজনের মৃত্যু, কয়েক হাজার হেক্টর আমন ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫ ইং | ১৯:০২:৩৭:অপরাহ্ন  |  ১৫১৩০৩২ বার পঠিত
শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে দুইজনের মৃত্যু, কয়েক হাজার হেক্টর আমন ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত
ছবির ক্যাপশন: শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে দুইজনের মৃত্যু, কয়েক হাজার হেক্টর আমন ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত

শেরপুর প্রতিনিধি :

শেরপুরে আকস্মিক ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাড়ি কিংবা বসতভিটার কোন চিহ্নই নেই। প্রায় ১১টি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলো  বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গনে। তাদের মাঝে উপজেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে শুকনো খাবারসহ সকালবেলা স্থানীয় উদ্যোগে রান্না করা খিচুরি দেওয়া হয়েছে। 

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পানিতে ঝিনাইগাতীর মহারশি ও সোমেশ্বরী এবং নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী ও ভোগাই নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশির নদীর বাঁধের পুরাতন ভাঙা দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক, বাজার ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। 

উপজেলার পূর্ব খৈলকুড়া এলাকার সাত্তার মিয়া, রহিমা বেগম, রহিম মিয়া, আব্বাস উদ্দিন, বারেক মিয়া, বাচ্চু মিয়ার ঘরসহ অন্তত ১১টি পরিবারের ঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঢলের পানি। এছাড়া মহারশি নদীর দিঘীরপাড়, সোমেশ্বরী নদীর কাড়াগাঁওসহ নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ রোপা আমন আবাদ ও সবজির আবাদ তলিয়ে যায়। ঢলে পানিতে পলি পড়ে অনেক জমির ধান নিচে পড়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বহু কৃষক। এছাড়া ঢলের পানিতে লাকড়ি ধরতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক ইসমাইল হোসেনের লাশ ঝিনাইগাতীর পূর্ব খৈলকুড়া এলাকা থেকে শুক্রবার সকালে উদ্ধার করা হয়েছে। ইসমাইল পার্শ্ববর্তী ডাকাবর এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা মো. আব্দুল্লাহর ছেলে। এ নিয়ে পাহাড়ি ঢলে দুদিনে দুইজনের মৃত্যু হলো।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় ১ হাজার ৫৭৬ হেক্টর জমির রোপা আমন আবাদ পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে আংশিক ১ হাজার ৪০ হেক্টর ও সম্পূর্ণ নিমজ্জিত রয়েছে ৫৩৬ হেক্টর জমির আমন আবাদ। এছাড়া ৮৬ হেক্টর শীতকালীন আগাম সবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার পূর্ব খৈলকুড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহারশি নদীর পানি একেবারে কমে গেছে। এতে ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। বহু বাড়িঘরের মালামাল দূরে খেতের মধ্যে বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অনেকেই কুড়িয়ে কুড়িয়ে সেগুলো নিয়ে এক জায়গায় জড়ো করছেন। রোপা আমন আবাদের উপর পলিমাটি পড়ে কিছু খেতের ধানগাছ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষক আব্বাস উদ্দিন জানান, আমার বাড়িও ভেঙে গেছে, আবার ধানের জমির উপর পলি পড়ে আবাদও নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সামনের দিনগুলোতে কিভাবে চলবো সেই চিন্তাই আছি। বাঁধটা তিন বছর আগে ভাঙছে। মেরামত না করায় প্রতিবছর একই জায়গায় ভাঙতেছে। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জাহিদুল হক মনির বলেন, এই ১১টি পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের বাড়িঘরই এখন নদী। এটি পুরোপুরি পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি। তারা যদি এই ভাঙা মেরামত করতো তাহলে এমন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া লাগতো না। এই এলাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি টেকসই কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণের দাবি জনগণের প্রাণের দাবি। নাহলে এলাকার লোকজন হয়তো কিছুদিন পর তাদের মৌলিক অধিকার আদায়ে রাস্তায় দাঁড়াবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, আমরা বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শন করে দেখেছি। পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত সময়ের মধ্যে নেমে গেলে কৃষকরা কম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর পলি পড়ে আবাদ নষ্ট হওয়া কৃষকদের তালিকা তৈরি করে তাদের প্রণোদনার সার-বীজ বিতরণের আওতায় আনা হবে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এই মহারশি নদীতে শক্ত কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ ছাড়া পাহাড়ি ঢলের সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে। আর বৃষ্টি না থাকায় নদীর পানি কমে এসেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে। 

রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪