ভোলা প্রতিনিধি :
মেঘনা নদীর ভয়াল ভাঙনে রাতারাতি বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও আশ্রয় হারিয়েছেন ভোলার সদর উপজেলার বিচ্ছিন্ন কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামের শতাধিক পরিবার। জীবনের সমস্ত সঞ্চয় নদীগর্ভে হারিয়ে অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
ষাটোর্ধ্ব শামসুন নাহার ও জাহানারা বেগম—তিন দশক ধরে প্রতিবেশী। এখন তারা বসতভিটা হারিয়ে পাশাপাশি একটি ছোট টং ঘরে পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শুধু তারা নন, একই পরিণতি হয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবারের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একসময় শস্যভাণ্ডারখ্যাত মাঝেরচরের চার-পঞ্চমাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হয়েছে ৫টি আশ্রয়ণ প্রকল্প, একটি মাটির কিল্লা, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাদরাসা, তিনটি মসজিদ, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, শত শত বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। অবশিষ্ট প্রকল্প রামদেবপুর-৪-ও এখন হুমকির মুখে।
নদীভাঙনে স্কুল ভবন ভেঙে যাওয়ায় ১৭৯ নং উত্তর-পশ্চিম কাচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে একটি পরিত্যক্ত সাইক্লোন শেল্টারে। কমিউনিটি ক্লিনিকও স্থানান্তরিত হয়ে চলছে একটি মাটির কিল্লার ভেতরে।
ভিটেমাটি হারানো জেলে পরিবারগুলো বলছেন, “এক রাতেই সব নদী নিয়ে গেছে, নতুন ঘর বানানোর সামর্থ্য নেই।” কেউ টং ঘরে, কেউ গরুর ঘরের পাশে একচালা চালায় আশ্রয় নিয়েছেন।
কৃষক স্বপন ও হাসেম জানান, একসময় মাঝেরচরের জমিতে ক্যাপসিকামসহ বিদেশি সবজির বাম্পার ফলন হতো। এখন সেই জমিও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড চর রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের একটাই দাবি—অবশিষ্ট এলাকা রক্ষায় দ্রুত জিওব্যাগ বা সিসি ব্লক বসানো এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন।
ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ জানান, “বর্ষায় নদীর প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি। প্রকল্প গ্রহণের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ চলছে। বাস্তবায়ন হলে ভাঙন রোধ সম্ভব হবে।”
এস