আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : বুধবার রাজ্য মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে লাদাখকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদ সহিংস রূপ নিলে ৪ জন নিহত এবং ৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা লেহ শহরের স্থানীয় বিজেপি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একটি গাড়িও পুড়িয়ে দেয়। পুলিশ টিয়ার-গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। আন্দোলন সহিংস রূপ ধারণ করার পর কেন্দ্রীয় প্রশাসন অবিলম্বে প্রতিবাদ ও সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
গত তিন বছর ধরে লাদাখে কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছিল। সেখানকার বাসিন্দারা তাদের জমি, সংস্কৃতি এবং সম্পদ রক্ষার জন্য রাজ্য মর্যাদা এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে বিভক্ত করে লাদাখকে একটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হয়। সে সময় সোনম ওয়াংচুক সহ লেহ-এর অনেকেই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই লেফটেন্যান্ট গভর্নরের অধীনে রাজনৈতিক শূন্যতা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়।
এই অসন্তোষ বড় আকারের বিক্ষোভ এবং অনশনের জন্ম দেয়। এই আন্দোলনের জন্য প্রথমবারের মতো বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ লেহ এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কার্গিলের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম, অর্থাৎ 'অ্যাপেক্স বডি অফ লেহ এবং কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স'-এর অধীনে একত্রিত হয়েছে।কেন্দ্রীয় সরকার লাদাখের দাবিগুলো যাচাই করার জন্য একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু একাধিকবার বৈঠকের পরেও কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। এই বছরের মার্চ মাসে, লাদাখের প্রতিনিধিরা দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, কিন্তু সেই আলোচনাও ব্যর্থ হয়। একজন নেতা জানিয়েছেন, "বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের বলেছিলেন যে, লাদাখকে একটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করাটা তার একটি ভুল ছিল। তিনি আমাদের রাজ্য মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন।" গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে ১৫ জন ব্যক্তি অনশন শুরু করেছিলেন, যাদের মধ্যে দু'জনের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ায় তাদের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপরই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল।সহিংসতার পর নিজের সমর্থকদের উদ্দেশে সোনম ওয়াংচুক শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি যুবকদের কাছে অনুরোধ করছি তারা যেন ভাঙচুর ও সংঘর্ষ বন্ধ করে। আমরা আমাদের অনশন শেষ করছি, এবং আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি তারা যেন টিয়ার-গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করে। সহিংসতায় প্রাণহানি হলে কোনো অনশন সফল হতে পারে না।"
রিপোর্টার্স২৪/এসএন