| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আমার জীবিত আব্বাকে মৃত ঘোষণা করা হলো কেন? প্রশ্ন ব্যাংক কর্মকর্তা ছেলের

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫ ইং | ১৫:৪৮:৩৭:অপরাহ্ন  |  ১৪৮৪৮৮৮ বার পঠিত
আমার জীবিত আব্বাকে মৃত ঘোষণা করা   হলো কেন? প্রশ্ন ব্যাংক কর্মকর্তা ছেলের

রিপোর্টার্স ডেস্ক : খুলনার ঐতিহ্যবাহী হ্যানে রেলওয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মোঃ মজিবর রহমান শেখকে জাতীয় পরিচয়পত্র সার্ভারে মৃত দেখানো হয়েছে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার ছেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মো. রিয়াজুল হক। রোববার রাতে  ফেসবুক  পোস্টে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, আমার আব্বা মোঃ মজিবর রহমান শেখ খুলনার ঐতিহ্যবাহী হ্যানে রেলওয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে অবসরে আছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে সুস্থ আছেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতে আদায় করেন। তিনি খুলনার ২১নং ওয়ার্ডের ভোটার। কয়েকদিন আগে আব্বা মনস্থির করেন, পবিত্র উমরাহ করতে যাবেন। এখন পাসপোর্ট তো করা নাই। সুতরাং পাসপোর্ট করতে হবে। 

রিয়াজুল আরও লেখেন, গতকাল ২৭.০৯.২০২৫ তারিখ ই-পাসপোর্ট পোর্টালে ঢুকে অনলাইনে ফরম পূরণের সময় আব্বার সকল তথ্য দিলাম। জাতীয় পরিচয় পত্রের (স্মার্ট কার্ডের) নাম্বার দিলাম। কিন্তু এনআইডি নাম্বারে দেওয়ার পর দেখাল, ‘ নো ডেটা ফাউন্ড’ বা কোন তথ্য নাই। ভাবলাম, সার্ভারে সমস্যা থাকতে পারে। অন্যান্য সকল তথ্য দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করলাম এবং প্রিন্ট করলাম। 

আজ ২৮.০৯.২০২৫ তারিখ, পাসপোর্ট এর ফি বাবদ চালান জমা দিতে যখন ক্যাশে গেলাম, তখন চালান জমা দেওয়া যাচ্ছিল না। কারণ হিসেবে ক্যাশ থেকে বলা হলো যে, সার্ভারে জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য চালানে টাকা জমা দেওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও লেখেন, ক্যাশ থেকে আমাকে নির্বাচন কমিশন অফিসে যোগাযোগ করার জন্য বলা হলো। তারা বিষয়টা ঠিক না করলে এনআইডি দিয়ে কোন কাজ করা যাবে না। কিন্তু এনআইডিতে কি সমস্যা সেই বিষয়টা ব্যাংক থেকে বলতে পারলো না। তাদের জানার কথাও নয়।

আমি নির্বাচন কমিশন অফিসে পরিচিত একজনকে ফোন দিয়ে বিষয়টি বলার পরে, তিনি আব্বার এনআইডি কার্ডের নাম্বারটা নিলেন। এরপর তিনি আমাকে যা জানালেন তার জন্য আমি আদৌ প্রস্তুত ছিলাম না। 

তিনি বললেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ডেটা সার্ভারে, আপনার আব্বাকে ‘ডেড বা মৃত’ হিসেবে দেখানো আছে। এই কারণে তার কোন তথ্য সার্ভারে দেখাচ্ছে না।’

আমি প্রশ্ন করলাম, ‘এটা কিভাবে সম্ভব? জীবিত মানুষকে কিভাবে মৃত করা হলো?’

রিজাজুল আরও লেখেন, ৫নং ঘাটের এরশাদ আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষক শেখ গোলাম মোস্তফা এবং ঐ একই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সওকত আলী শেখ এই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছেন। অর্থাৎ জীবিত মানুষকে মৃত করেছেন।

এরপর সেই ফরম জনাব মোঃ আলাউদ্দিন, সহকারী থানা নির্বাচন অফিসার, খুলনা সদর এবং জনাব মনোরঞ্জন বিশ্বাস, থানা নির্বাচন অফিসার, খুলনা সদর দ্বারাও সুপারিশকৃত হয়েছে।

অর্থাৎ এই অন্যায় কাজ করার সময়, কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি। স্বনামধন্য শিক্ষক হওয়ার কারণে এলাকার সকল মানুষই আব্বাকে চেনেন, এখনো অনেকের সাথে আব্বার যোগাযোগ আছে।  

তিনি পোস্টে আরও লেখেন, আব্বার মেজো পুত্র মোঃ মনজুরুল হক সরকারের পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা। তার পোস্টিং ঢাকায়। তার নামের একটি অংশ জাল করে লিখে (এমন হাতের লেখা তার হাজার বছরেও হবেনা) নিজের বাবাকে মৃত্যু দেখানো হয়েছে। কতটা ধৃষ্টতা এবং কতটা ভয়ংকর অন্যায়, ভাবুন একবার! নিজের বাবা মারা গেছে, ছেলেই জানে না, অথচ ছেলের নাম আনাড়িভাবে লিখে স্বাক্ষর হিসেবে দেখিয়ে, এরশাদ আলী প্রাথমিক স্কুলের দুজন শিক্ষক ( গোলাম মোস্তফা এবং সওকত আলী শেখ) বিগত ৫.৩.২০২৫ তারিখ জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা করেছেন। এবং নির্বাচন কমিশনের দুইজন কর্মকর্তা সেটা সুপারিশও করেছেন।

রিয়াজুল লেখেন, যেসব নামধারী শিক্ষক বা ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করে, তাদের দ্বারা জীবন্ত মানুষ মৃত ঘোষণা করা হচ্ছে, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর কী হতে পারে? জীবিত মানুষ যদি নাগরিক সুবিধা না পায়, তাহলে তো তাকে মেরে ফেলানোই হলো। এটাতো ‘টিক’ চিহ্ন না যে, ভুলবশত টিক দেওয়া হয়েছে। পুরো ফরম পূরণ করে, সুপারিশ করে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। 

একজন মানুষ জীবিত থাকা অবস্থায় যদি তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়, তাহলে তো সে সকল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এনআইডি যদি একটিভ না থাকে, তাহলে সে তো কোন কাজই করতে পারবে না।

এরপর নির্বাচন কমিশনের সেই কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলাম, ‘এখন আমার করণীয় কী?’ তিনি জানালেন, ‘আপনাদের ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর-এর দায়িত্বে যিনি আছেন, তার কাছ থেকে একটি প্রত্যয়ন পত্র নিন যে, আপনার পিতা বেঁচে আছেন। তারপর সেটা নিয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে যান।’

ভাবুন একবার, কতটা মানসিক কষ্টের কাজ। তার ওপর প্রচণ্ড গরম। এর মধ্যেই দৌড়ানো শুরু করলাম। 

তিনি আরও লেখেন, ২১ নং ওয়ার্ডের যে সচিব, ছোটবেলা থেকেই তাকে কাকা বলে ডাকি। আব্বাকে সে বড় ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করেন। তাকে বিষয়টা বললাম। 

তিনি রাগ হয়ে বললেন, ‘এটা তো অপরাধ। জীবিত মানুষকে কিভাবে মৃত করে? আমাদের কাছে তো খোঁজ নিতে পারতো। আমরা তো বলে দিতে পারতাম। মজিবর স্যারকে চিনে না ২১ নং ওয়ার্ডে এমন কেউ আছে নাকি?’

তারপর কাউন্সিলর থেকে প্রত্যয়নপত্র নিলাম। সেই প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আবার নির্বাচন কমিশন অফিসে দৌড়ালাম। শুধু আমাকে দৌড়ালে তো হবে না। আমার বৃদ্ধ আব্বাকেও এই প্রচণ্ড গরমে দৌড়াতে হবে। আব্বাকে সাথে নিয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে গেলাম। সেখানে আবার আব্বার আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হলো।

পুরো ঘটনাটি জানার পর, আমার আব্বাও মুষড়ে পড়েছেন। জীবিত মানুষকে মেরে ফেলার কারণ তিনি খুঁজছেন? 

রিয়াজুল লেখেন, আমার আব্বার এখন বয়স ৭৩ বছর। যে দুশ্চিন্তা তাকে দেওয়া হলো, যে মানসিক কষ্ট তাকে দেওয়া হলো, এই দায়ভার কার কার? আর জীবিত মানুষকে এনআইডি’তে মৃত দেখানোর মতো এই ন্যাক্কারজনক কাজের উদ্দেশ্য কি?

এসসি


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪