| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৪৭ বছরেও ভাঙ্গায় গড়ে উঠেনি বিএনপির স্থায়ী অফিস

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ১৭, ২০২৫ ইং | ০০:০০:০০:পূর্বাহ্ন  |  ১৮৫১৮৪৪ বার পঠিত
৪৭ বছরেও ভাঙ্গায় গড়ে উঠেনি  বিএনপির স্থায়ী অফিস
ছবির ক্যাপশন: ৪৭ বছরেও ভাঙ্গায় গড়ে উঠেনি বিএনপির স্থায়ী অফিস

মামুনুর রশীদ, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

ভাঙ্গা সদরপুর ও চর ভদ্রাসন এলাকা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসন। সেই দিক থেকে ভাঙ্গা উপজেলা ভোটের রাজনীতিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। রাজনৈতিক পটভূমিকায় এউপজেলা আওয়ামী লীগ অধ্যুসিত এলাকা। বিএনপি ও জামায়াত ইসলামি এবং জাতীয় পার্টির বাইরে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের খুব একটা দেখা পাওয়া যায় না এ-শহরে। আওয়ামী লীগের পরেই বিএনপির অবস্থান।

গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকার গণঅভ্যুত্থানে বিদায় পরবর্তী সময়ে কিছু ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন ও নতুন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী উম্মেচন হলেও নির্ধারিত কোন অফিস তাদের নেই বললেই চলে। এক কথায় রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী থাকলেও রাজনৈতিক অফিস শুধু দৃশ্যমান রয়েছে ভাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী লীগের।

১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলেও গত ৪৭টি বছরেও ভাঙ্গা উপজেলা গড়ে উঠেনি দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয় তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী অফিস। কখনও ভাড়া ঘরে অথবা দলীয় নেতা-কর্মীদের বাসা বাড়িতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে জাতীয় তাবাদী শক্তির পূজারী পরিচয়ে স্বস্তিবোধ করতেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই জাতীয় তাবাদী দল বিএনপির ভাঙ্গা উপজেলায় নির্ধারিত কোন অফিস ছাড়াই চলছে রাজনৈতিক মুক্ত চর্চা।

ভাঙ্গায় বিএনপির অফিস নেই এবিষয়ে সরজমিনে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের রোষানলে পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছিল পলাতাক। এখন অস্থিরতা কাটিয়ে দেশ স্থিতিশীলতা অবস্থায় ফিরে এসেছে। বিএনপির নির্ধারিত কোন অফিস না থাকায় আজও সভাপতির বাসভবনে দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত করা হয়। এটা সংগঠনের নেতা-কর্মীদের জন্য দুঃখজনক বলে দাবী করেন তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা।

তারা জানান, মরহুম এডভোকেট আবদুল গাফফার খান (১৯৭৮) সালে ভাঙ্গায় বিএনপির রাজনীতি চাঙা করে গেছেন। তিনি ছিলেন প্রথম সভাপতি এবং বিএনপির কোন অফিস না থাকায় সেদিনও বিএনপির রাজনীতি এ-শহরে পরিচালিত হত ভ্র্যাম্যমাণ হাওয়ায়।

১৯৭৯ সাল থেকে ভাঙ্গায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক খবরদারীর আসন হওয়ার সুবাদে সংখ্যা গরিষ্ঠতায় নগন্য সৈন্যে নিয়ে বিএনপি রাজনীতির মাঠে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠলেও আজও গড়ে উঠেনি বিএনপির রাজনৈতিক অফিস। কারণ হিসেবে সাধারণ নেতাকর্মীদের অভিমত বহুদলীয় গণতন্ত্রের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে বিএনপির রাজনীতিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির পরিবর্তন সাধিত হলেও সহসাই কোন কমিটি নেতৃবৃন্দ বিএনপির রাজনৈতিক অফিস নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেন নি।

অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টিতে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির কান্ডারী হিসেবে এযাবতকালে  হালধরেছেন অথবা বিএনপির রাজনীতিতে বলিষ্ঠ ভূমিকায় যারা অবতীর্ণ হয়েছেন তারাও কেউও স্থায়ী বা  অস্থায়ী অফিসের উপলব্ধি করে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয় তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী কোন অফিস ভবন আদৌও গড়ে তোলার দৃষ্টান্ত দেখা যায়নি। এপর্যন্ত এদেশের মাটিতে বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই এলাকার নেতাকর্মীদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছিল সত্যি কিন্তু বিএনপির একটি স্থায়ী অফিসের গুরুত্ব কোন নেতৃত্ব ধারার নেতাদের কাছে হয়ে ওঠেনি অভিমত উপজেলা বিএনপির ত্যাগী ও বর্ষীয়ানদের।

ভাঙ্গা বিএনপির উপদেষ্টা সেন্টু মিয়া বলেন, ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা লগ্নে আমি একজন টগবগ যুবক। মরহুম ওবায়দুর রহমানের দিকনির্দেশনায় রাজনীতি শুরু করি। মরহুম এডভোকেট আবদুল গাফফার খান ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির  প্রথম সভাপতি। আমাদের নিয়ে ভাঙ্গা আইনজীবী সমিতির মধ্যে বিএনপির ছোটখাটো পরামর্শ করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেখে আসছি যাদেরকে সভাপতি ও  সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পাওয়া যায় কেন বাসাবাড়িতে বা নিজস্ব অফিস থাকলে সেই অফিসে বসেই পরিচালিত হয়ে থাকে বিএনপির রাজনীতি। আপডেট নিউজ হিসেবে আলহাজ্ব খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম বর্তমান সভাপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির হালধরে রেখেছেন। শহরের খন্দকার টাওয়ারের মালিক সুবাদে তিনি টাওয়ারের তৃতীয় তলায় বিএনপির অস্থায়ী অফিস হিসেবে বিএনপির রাজনীতি পরিচালনা করে  আসছেন। আওয়ামী লীগের গত ১৭ বছর সাইনবোর্ড টাঙানোর সাহস হয়ে ওঠেনি। বিএনপির কোন অফিস না থাকায় এভাবেই গত কয়েক যুগধরে ভ্রাম্যমাণ রাজনৈতিক অফিস থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে বাংলাদেশ জাতীয় তাবাদী দল বিএনপির ভাঙ্গার রাজনীতি।

ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি কাজী বিল্লাল বলেন, ২০০১ সালে প্রয়াত বিএনপি নেতা এমএম শাহরিয়ার রুমী বিএনপিতে যোগদান করার মধ্যে দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে আলহাজ্ব খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমকে সভাপতি হিসেবে পাওয়া যায়। দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে রুমী মোল্লা সেদিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভাঙ্গা পৌর এলাকায় বিএনপির একটি স্থায়ী অফিস নির্মাণ করার পাশাপাশি ১২টি ইউনিয়নে একটা করে অফিস তৈরি করা হবে সভাপতির নেতৃত্বে। কিন্তু তার মৃত্যুর পর ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির কোন নেতা আর সেদিকে দৃষ্টি না দেওয়ায় আজও স্থায়ী কোন অফিস গড়ে উঠেনি।

ভাঙ্গা বিএনপির সাবেক সভাপতি মঞ্জুর হাসান খান বলেন, বিএনপির রাজনীতির সাথে যারা জড়িত হয় তখন নিজের ভাগ্যর উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে বিধায় আজও বিএনপির অফিস গড়ে উঠেনি বলে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম বলেন, ২০০৩ সালের আগে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির স্থায়ী কোন অফিস ছিল না। কিন্তু আমি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আদালত সংলগ্ন মাছের বাজার এলাকায় পাকা ভবন নির্মাণ করে বিএনপির অফিস তৈরি করে ছিলাম নিজের অর্থায়নে। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মুক্তি যোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ করায় বিএনপির অফিস ভেঙে ফেলা হয়। এরপর ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে বিএনপি নেতা কর্মীরা এলাকায় রাজনীতি করতে পারেনি বিধায় বিএনপির অফিস করা হয়ে ওঠেনি। তিনি আরও বলেন, হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন করে বিএনপির অফিস স্থাপন করার জন্য জায়গা ক্রয় করার চেষ্টা চলছে এবং খুব শীঘ্রই নিজস্ব জায়গায় অফিস গড়ে উঠবে বলে জানান।


.

রিপোর্টার্স২৪/এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪