| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেরপুরে আ’লীগ নেতার জামিন হওয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৬, ২০২৫ ইং | ১১:৫৪:০৭:পূর্বাহ্ন  |  ১৪৪১৫৯৩ বার পঠিত
শেরপুরে আ’লীগ নেতার জামিন হওয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পালের জামিন হওয়ার প্রতিবাদে জেলা জজ, পিপি ও জিপির অপসারণসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।  রবিবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে শেরপুর আদালত, পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে আদালতের প্রধান ফটক অবরোধ করেন। ওইসময় আদালতের ভেতরে কোন বিচারক-আইনজীবী প্রবেশ করতে না পারায় দুপুর পর্যন্ত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

অবরোধ চলাকালে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহবায়ক মামুনুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন পালের জামিনের মাধ্যমে তাকে পালানোর সুযোগ দিয়ে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারসহ আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। 

৭ দফা দাবিগুলো হচ্ছে জেলা জজের অপসারণ, আদালতের পিপি ও জিপির অপসারণ, আ’লীগ নেতা চন্দন পালের গোপনীয় জামিনের সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনা, চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতার, আইনি সহায়তা সেল গঠন ও শহীদদের মামলায় বাণিজ্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনা। 

ওইসময় বক্তব্য রাখেন শেরপুর জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া, কেন্দ্রীয় যুবশক্তির সংগঠক মাহমুদুল হাসান রাকিব, সদর উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নূর ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সমন্বকারী রাশেদুল হাসান দেওয়ান, জেলা যুবশক্তির আহবায়ক আশরাফুল আলম, জুলাইযোদ্ধা মো. আরিফ, শহীদ মাহবুবের বড়ভাই মাজহারুল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ।

এদিকে বেলা পৌণে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান আন্দোলনকারীদের কাছে গিয়ে তাদের কথা শুনেন এবং তাদের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে ছাত্র-জনতা অবরোধ ও বিক্ষোভ তুলে নেন। ওইসময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শেরপুরে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পিপি চন্দন কুমার পালের জামিন ইস্যুতে গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে জেলাজুড়ে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যাসহ একাধিক মামলা হয়। পরে ভারতে চলে যাওয়ার চেষ্টাকালে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বেনাপোল সীমান্তে আটক হলে পর্যায়ক্রমে তাকে ৬ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ওইসব মামলায় তিনি প্রায় ১১ মাস হাজতবাসের পর চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে জেলগেট থেকে ফের গ্রেফতার হন তিনি। 

ওই মামলায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর শেরপুরের দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান তিনি এবং পরদিন সকালে কারামুক্তি লাভ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অভিযোগ, আদালতের পিপিসহ বিএনপির কতিপয় নেতা ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা অর্থের বিনিময়ে এ জামিনে সহায়তা করেছেন।

এর জের ধরে দায়রা জজ আদালতের পিপি ও শহর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক হযরত আলীসহ বিএনপির নেতাদের ওপরও সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে। পরে তারা সংবাদ সম্মেলন করে এসব অপপ্রচার ও প্রতিহিংসার জের বলে অভিযোগ করেন। পাল্টা হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংবাদ সম্মেলন করে চন্দন পালকে গ্রেফতারসহ জামিনকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আল্টিমেটাম দেয়।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪