রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, 'সব কিছুরই শেষ আছে।' বুধবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদেকুর রহমানের আদালতের এজলাসে ওঠার সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বনানী থানায় মো. শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি হত্যা মামলায় বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী, গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর গাজী ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এদিন সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে আসামিদের কারাগারে থেকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তাদের সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতর দিয়ে তাদের প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পড়িয়ে এজলাসে ওঠানো হয়।
এজলাসে ওঠানোর সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, 'সব কিছুরই শেষ আছে।' এসময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, 'সামনে তো নির্বাচন? আপনি কি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন।' এই কথা শুনে মাথা নাড়ান তিনি।
এরপর পলক আবারও বলেন, 'সব কিছুরই শেষ আছে।'
পরে পুলিশ তাদের সিএমএম আদালতের ৫ তলার এজলাসে ওঠান। এরপর তাদের কাঠগড়ার ভেতর নেওয়া হয়। সেখান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য তাদের মাথার হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দেন। কাঠগড়ায় সামনের দিকে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, পাশে ছিলেন জুনায়েদ আহমেদ পলক, রাশেদ খান মেনন ও আতিকুল ইসলাম। এসময় তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে দেখা গেছে।
সকাল ১১টা ৮ মিনিটের বিচারক এজলাসে ওঠেন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক মো. ইয়াছির আরাফাত তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেন।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন আসামিদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো শুনানিতে বলেন, 'আসামিরা এজাহারনামীয়। ভিকটিম শাহজাহান বনানী থানাধীন মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। এসময় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলে দেশীয় অস্ত্রসহ, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করে। সেসময়ে ভিকটিম শাহজাহান বুকে ও পেটে দুইটি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। চার দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।'
তিনি আরও বলেন, 'ওইদিন ১২০ জন জুলাই আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হয়। আসামিদের নির্দেশে তাদের হত্যা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত স্বার্থে তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রার্থনা করছি।'
শুনানি শেষে আদালত তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর আবারও তাদের তাদের মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পড়িয়ে এজলাসে থেকে হাজতখানায় নেওয়া হয়।
'আমি ভালো আছি৷ মানসিকভাবে শক্ত রয়েছে। মনে থেকে উজ্জীবিত রয়েছি। আগে মন খারাপ থাকলেও, এখন আর মন খারাপ হয় না। নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি'— এই সংবাদ পলকের বাড়িতে পাঠানোর জন্য তার পক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম (সাইফ)কে অনুরোধ করেন।
পলকের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম (সাইফ)বলেন, 'তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো এই সংবাদ তার বাড়িতে জানাতে বলেছেন। জেলখানায় যে সুবিধা পাওয়ার কথা, সেটা তিনি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের এক নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই বিষয় তিনি ভীতিগ্রস্ত হলেও, এখন মানসিকভাবে প্রস্তুত নিচ্ছেন। সব কিছুতেই নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন পলক।'
রিপোর্টার্স২৪ /এসএন